পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি • ঢাকা কলেজ • ঢাকা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
করিম একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে ইচ্ছুক। সে জানে বাংলা ও ইংরেজি বিষয় বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঐচ্ছিক বিষয় হিসাবে বিষয় নির্বাচন করতে গিয়ে সে তার পূর্ব পরিচিত এক বন্ধুর বড় ভাইয়ের নিকট পরামর্শ চাইল। সে তাকে জিজ্ঞাসা করল যে, উচ্চতর শ্রেণিতে তুমি কী বিষয় নিয়ে সম্মান ও মাস্টার্স পড়তে ইচ্ছুক। করিমের প্রবল ইচ্ছা সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স করবে। তার ভবিষ্যৎ ইচ্ছা জানতে পেরে শিক্ষক তাকে পরামর্শ দিলেন, পৌরনীতিকে ঐচ্ছিক বিষয় হিসাবে নির্বাচন করার জন্য এবং বললেন যে, পৌরনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। পৌরনীতি পাঠ করা একান্ত অপরিহার্য। আমাদের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করবে। আর জ্ঞান না থাকলে তারা শুধু প্রতারিত হবে না বরং সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতেও পারবে না।
- ক)(1)
পৌরনীতি কাকে বলে?
- খ)(2)
পৌরনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
বন্ধুর বড় ভাই করিমকে পৌরনীতি ও সুশাসন পড়ার পরামর্শ দিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সর্বশেষ মন্তব্যটি পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয় গুরুত্বের পূর্ণাঙ্গ ইঙ্গিতবহ- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাস্ত্র নাগরিকতা, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে, তাকে পৌরনীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৌরনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো নাগরিক ও নাগরিকতা।
পৌরনীতি নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রূপ নিয়ে আলোচনা করে। নাগরিকের অধিকার ভোগ এবং রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন—এ দুইয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করাই পৌরনীতির মূল উপজীব্য। তাই একজন আদর্শ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার যাবতীয় দিক পৌরনীতির কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
করিমের রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য থাকায় তার বন্ধুর বড় ভাই তাকে এইচএসসি পর্যায়ে পৌরনীতি ও সুশাসন পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরস্পরের পরিপূরক ও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পৌরনীতি হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো রাষ্ট্র ও সরকারের নীতি, সংগঠন ও কার্যক্রম বিষয়ক বিস্তৃত বিজ্ঞান। উচ্চ মাধ্যমিকে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, আইনের শাসন ইত্যাদি বিষয়ের মৌলিক ধারণা অর্জিত হয়।
উদ্দীপকে করিম ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স করতে চায়। তাই এ বিষয়ের ভিত্তি মজবুত করার জন্য এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা সহজে অনুধাবনের সুবিধার্থেই বড় ভাই করিমকে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন নির্বাচনের যথার্থ পরামর্শ দিয়েছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সর্বশেষ মন্তব্যটি—"আর জ্ঞান না থাকলে তারা শুধু প্রতারিত হবে না বরং সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতেও পারবে না"—পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের অপরিহার্য গুরুত্বের একটি পূর্ণাঙ্গ ইঙ্গিত বহন করে। মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ।
পৌরনীতি ও সুশাসন এমন একটি শাস্ত্র যা নাগরিককে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ করে তোলে। নাগরিক যদি নিজের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা মৌলিক অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তবে সমাজে বা রাষ্ট্রে সে সহজেই শোষিত ও প্রতারিত হতে পারে। পাশাপাশি একজন সুনাগরিকের গুণাবলি (বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক) অর্জন না করলে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন, আইন মান্য করা এবং কর প্রদানের মতো কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করা অসম্ভব।
উদ্দীপকে শিক্ষকের/পরামর্শদাতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, পৌরনীতির জ্ঞান ছাড়া নাগরিকরা প্রতারিত হবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হবে। বাস্তব জীবনে গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকার সংরক্ষণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সংক্রান্ত সচেতনতা আবশ্যক, যা কেবল পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।
অতএব, অধিকার রক্ষা ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশে পৌরনীতির জ্ঞান অপরিহার্য হওয়ায় উদ্দীপকের মন্তব্যটি এ বিষয়ের গুরুত্বকে পুরোপুরি যথার্থভাবে তুলে ধরেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও