অর্থনীতি • অর্থনীতি পরিচয়
অর্থনীতি প্রশ্ন
রফিক সাহেব একজন পোশাক কারখানার মালিক। তিনি সম্প্রতি তার কারখানার একক উৎপাদন খরচ, নির্দিষ্ট কাপড়ের যোগান এবং শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে চিন্তিত। অন্যদিকে, দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আশরাফ একটি সেমিনারে বলেন, "১৯৩০-এর দশকে দেখা গেছে বাজার ব্যবস্থা একা দেশের সব সমস্যা সমাধান করতে পারে না। বর্তমান সার্বিক বেকারত্ব দূরীকরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি করতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।"
- ক)(1)
অর্থনীতির ইংরেজি শব্দ 'Economics' কোন গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে?
- খ)(2)
সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত রফিক সাহেবের কারখানার সমস্যাটি অর্থনীতির কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ড. আশরাফের বক্তব্যটি কেইনসীয় অর্থনীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির মূল ভাবধারাকে সমর্থন করে—উক্তিটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অর্থনীতির ইংরেজি শব্দ 'Economics' গ্রিক শব্দ 'Oikonomia' থেকে এসেছে।
- খ)
মানুষের জীবনের অভাব অসীম, কিন্তু সেই অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা উপকরণ অত্যন্ত সীমিত। প্রয়োজনের তুলনায় সম্পদের এই অপ্রতুলতা বা স্বল্পতাকেই অর্থনীতিতে 'সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা' (Scarcity) বলে। সম্পদ অসীম হলে সমাজে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হতো না এবং অর্থনীতি শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটতো না।
- গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত রফিক সাহেবের কারখানার বিষয়াবলি ব্যষ্টিক অর্থনীতির (Microeconomics) অন্তর্ভুক্ত।
অর্থনীতির যে শাখায় একক বা ক্ষুদ্র কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইউনিট—যেমন একজন ব্যক্তি, একটি পরিবার, একটি খামার বা একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বাজার আচরণ পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে ব্যষ্টিক অর্থনীতি বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রফিক সাহেব কেবল তাঁর নিজস্ব একটি পোশাক কারখানার একক উৎপাদন খরচ, নির্দিষ্ট পণ্যের যোগান ও শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আলোচনা করছেন। এটি কোনো দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে নির্দেশ করছে না, বরং একটি নির্দিষ্ট একক বা ক্ষুদ্র ফার্মের অর্থনৈতিক আচরণকে তুলে ধরছে। তাই রফিক সাহেবের কারখানার এই বিশ্লেষণ ব্যষ্টিক অর্থনীতির শাখা হিসেবে চিহ্নিত।
- ঘ)
ড. আশরাফের বক্তব্যটি কেইনসীয় অর্থনীতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির (Macroeconomics) মূল ভাবধারাকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করে।
সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা যেমন—জাতীয় আয়, মোট বিনিয়োগ, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার সময় ক্লাসিক্যাল মুক্ত বাজার ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস সরকারি হস্তক্ষেপের গুরুত্ব উপস্থাপন করেন। কেইনসের মতে, মন্দা ও বেকারত্ব কাটাতে সরকারকে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও কর হ্রাসের মাধ্যমে অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হয়।
উদ্দীপকে ড. আশরাফ সামগ্রিক বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও জাতীয় আয়ের মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। একই সাথে তিনি ১৯৩০-এর দশকের উদাহরণ টেনে সরকারের প্রত্যক্ষ নীতিগত হস্তক্ষেপ ও ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলেছেন, যা জন মেনার্ড কেইনসের মূল তত্ত্ব।
অতএব, ড. আশরাফের বক্তব্যটি সামষ্টিক অর্থনীতির পরিধিভুক্ত এবং অর্থনীতিবিদ কেইনসের সংকটের সময়ে সরকারি হস্তক্ষেপের নীতির সাথে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটিতে ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির পার্থক্য এবং কেইনসীয় তত্ত্ব ও দুষ্প্রাপ্যতার ধারণা যাচাই করা হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও