‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • ঢাকা কলেজ • ঢাকা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

নাজমুল হাসান সাহেব একজন শিক্ষক, তিনি নিজের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। তিনি শান্তিতে বিশ্বাসী। এ জন্য তিনি যুদ্ধকে ঘৃণা করেন। তিনি চান জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারসমূহ পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রেই বাস্তবায়ন করতে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবে।

  1. ক)

    মানবাধিকার কী?

    (1)
  2. খ)

    মানবাধিকার সংক্রান্ত সাধারণ নীতিগুলো উল্লেখ করো।

    (2)
  3. গ)

    বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বাংলাদেশের নাগরিকদের যে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে- সেগুলোর নাম লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    'একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে মানবাধিকার বা মৌলিক অধিকার এর নীতি কখনও বাস্তবায়িত হতে পারে না'- উক্তিটির যথার্থতা নির্ণয় করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ হিসেবে জন্মসূত্রে সুস্থ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধাসমূহকে মানবাধিকার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার মূল ভিত্তি বা সাধারণ নীতিগুলো হলো:
    ১. স্বাধীনতা ও সমতা: সকল মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
    ২. বৈষম্যহীনতা: জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য ছাড়াই প্রত্যেকে এসব অধিকার ভোগ করবে।
    ৩. অবিভাজ্যতা ও আন্তঃসম্পর্ক: মানবাধিকারগুলো অবিভাজ্য এবং একে অপরের সাথে পরস্পর নির্ভরশীল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (মৌলিক অধিকার) নাগরিকদের যে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার সন্নিবেশিত রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো:
    ১. আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭)
    ২. ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য বিলোপ (অনুচ্ছেদ ২৮)
    ৩. সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা (অনুচ্ছেদ ২৯)
    ৪. জীবনের নিরাপত্তা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২)
    ৫. চলাফেরার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬)
    ৬. সমাবেশের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৭)
    ৭. সংগঠন করার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৮)
    ৮. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯)
    ৯. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪০)
    ১০. ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪১)
    ১১. সম্পত্তির অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪২)
    ১২. গৃহ ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪৩)।
    এগুলো নাগরিকদের সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
    সুশাসন হলো এমন এক শাসন ব্যবস্থা যেখানে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে। মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা, যা কেবল একটি সুশাসিত রাষ্ট্রেই সম্ভব।

    প্রথমত, আইনের শাসন ছাড়া ক্ষমতাশীলদের স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকলে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিকরা প্রতিকার পেতে ব্যর্থ হয়।
    দ্বিতীয়ত, সুশাসনে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে, যা নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অধিকারের পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয়। বিপরীতভাবে, দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠী তাদের প্রাপ্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

    অতএব, একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে সংবিধানে বা আন্তর্জাতিক ঘোষণায় মানবাধিকারের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবে প্রয়োগ ও ভোগ করা সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন