পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ইংল্যান্ডের রাজা জন ও বিদ্রোহী ব্যারনদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য যে চুক্তি করা হয় সেটি ম্যাগনাকার্টা। রাজার বৈষম্যমূলক আচরণ ও আচরণ থেকে মুক্তি পাবার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। ১২১৫ সালের ১৫ জুন এটা স্বাক্ষরিত হয়। ম্যাগনাকার্টা যেভাবে সাংবিধানিক শাসনের সূচনা করে ঠিক তেমনি কতকগুলো ঐতিহাসিক দাবি বাঙালের মুক্তির পথ দেখায়।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষিমন্ত্রী কে ছিলেন?
- খ)(2)
আগরতলা মামলা বলতে কী বুঝ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাঙালির কোন দাবির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঐতিহাসিক দাবি তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষিমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক রাষ্ট্রদ্রোহী মামলাই 'আগরতলা মামলা' নামে পরিচিত। এ মামলার সরকারি নাম ছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'। পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছিল যে, আসামিরা ভারতের আগরতলায় বসে সশস্ত্র উপায়ে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে খ্যাত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' দাবির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১২১৫ সালের ব্রিটিশ ম্যাগনাকার্টা যেভাবে সেখানকার জনগণকে রাজার স্বৈরাচার থেকে মুক্তি দিয়ে অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার সূচনা করেছিল, তেমনি ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপিত ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানি শোষণ, বৈষম্য ও ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির রূপরেখা দেখায়। ছয় দফায় বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। তাই ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়। উদ্দীপকের বক্তব্যটি সরাসরি এই ঐতিহাসিক ছয় দফাকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঐতিহাসিক দাবি অর্থাৎ ছয় দফার তাৎপর্য বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অপরিসীম।
ছয় দফার প্রধান তাৎপর্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. স্বাধিকার আন্দোলনের রূপরেখা: ছয় দফা পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট পথরেখা প্রণয়ন করে। এর মাধ্যমে বাঙালিরা কেন্দ্র-প্রদেশের বৈষম্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।
২. ঐক্য ও জাতীয় চেতনার বিকাশ: ছয় দফার ভিত্তিতে সমগ্র বাঙালি জাতি একতাবদ্ধ হয়। এটি স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে স্বাধীনতা অর্জনের আকাক্সক্ষায় রূপ দেয়।
৩. গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণা: ছয় দফাকে স্তব্ধ করার জন্য আগরতলা মামলা দায়ের করা হলে তার ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, যা আইয়ুব খানের পতন ঘটায়।
৪. ১৯৭০-এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মূলত ছয় দফার ভিত্তিতেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে, যা বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের বৈধ ভিত্তি দান করে।অতএব, ছয় দফাই ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এবং এটিই ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি প্রস্তুত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও