যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: রিপন তার বন্ধুকে বলল, ময়না হয় দ্বিপদ পাখি, দোয়েল হয় দ্বিপদ পাখি, কোকিল হয় দ্বিপদ পাখি, সুতরাং, সকল পাখি হয় দ্বিপদ। দৃশ্যকল্প-২: মফিজ সাহেব তাঁর মেয়েকে বললেন, "আমি এ যাবৎ যত পাখি দেখেছি তার সবই আকাশে উড়তে পারে। সুতরাং, সব পাখি আকাশে উড়তে পারে।"

  1. ক)

    আরোহ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের আরোহ নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত আরোহের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কতিপয় বিশেষ বস্তু বা ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে আরোহ অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি হলো আরোহ অনুমানের একটি মৌলিক আকারগত ভিত্তি, যার মূলকথা হলো প্রকৃতি সমাবস্থায় সমরূপ আচরণ করে (Nature repeats itself)। অর্থাৎ, অতীতে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যা ঘটেছে, ভবিষ্যতেও অনুরূপ পরিস্থিতিতে একই রূপ ঘটনা ঘটবে। প্রকৃতি খামখেয়ালী নয়, বরং সুশৃঙ্খল নিয়মের অধীন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ আরোহের অপ্রকৃত রূপের অন্তর্ভুক্ত 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (Perfect Induction) নির্দেশিত হয়েছে।

    যে আরোহ অনুমানে একটি সার্বিক বাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্তকে একে একে প্রত্যক্ষ বা গণনা করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে।

    দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, রিপন বিভিন্ন নির্দিষ্ট পাখির দ্বিপদত্ব প্রত্যক্ষ করে সকল পাখি সম্পর্কে দ্বিপদ হওয়ার সাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যকার সকল পাখি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে বা প্রতিটি দৃষ্টান্তের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এতে কোনো ‘আরোহমূলক লম্ফ’ (Inductive Leap) উপস্থিত থাকে না। প্রতিটি দৃষ্টান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষণ করে সিদ্ধান্ত টানা পূর্ণাঙ্গ আরোহের বৈশিষ্ট্যকে যথাযথভাবে তুলে ধরে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' এবং দৃশ্যকল্প-২ এ 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য দেখানো হলো:

    ১. দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের ধরন: দৃশ্যকল্প-১ এ সংশ্লিষ্ট শ্রেণিটির প্রতিটি দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ বা গণনা করে সিদ্ধান্ত টানা হয়। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-২ এ মফিজ সাহেব শুধু তাঁর জীবনের সীমিত ও অনূকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ সব পাখির দৃষ্টান্ত তিনি পরীক্ষা করেননি।

    ২. আরোহমূলক লম্ফ: দৃশ্যকল্প-১ এ কোনো আরোহমূলক লম্ফ (জানা থেকে অজানায় গমন) থাকে না, কারণ প্রতিটি দৃষ্টান্তই জানা। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এ মফিজ সাহেব তাঁর দেখা পাখি থেকে না-দেখা সব পাখি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত টানায় সেখানে সুস্পষ্ট আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান।

    ৩. সিদ্ধান্তের প্রকৃতি: পূর্ণাঙ্গ আরোহের (দৃশ্যকল্প-১) সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়, কারণ কোনো ব্যতিক্রম থাকার সুযোগ থাকে না। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের (দৃশ্যকল্প-২) সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য; কারণ একটিমাত্র বিপরীত দৃষ্টান্ত পেলেই সিদ্ধান্তটি মিথ্যা প্রমাণিত হতে পারে (যেমন: উটপাখি বা পেঙ্গুইন পাখি হলেও উড়তে পারে না)।

    ৪. বৈজ্ঞানিক মূল্য: দৃশ্যকল্প-১ আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য লম্ফ না থাকায় প্রকৃত আরোহ নয় (অপ্রকৃত আরোহ)। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ কার্যকর সম্পর্ক নির্ণয় না হলেও আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত থাকায় তা প্রকৃত আরোহের একটি রূপ।

    পরিশেষে, দৃশ্যকল্প-১ হলো আরোহমূলক লম্ফহীন নিশ্চিত পূর্ণাঙ্গ আরোহ এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো অনূকূল অভিজ্ঞতানির্ভর সম্ভাব্য অবৈজ্ঞানিক আরোহ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন