সাহিত্য পাঠ • যৌবনের গান • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
"আমায় নহে গো-ভালোবাসো শুধু ভালোবাসো মোর গান। বনের পাখিরে কে চিনে রাখে, গান হলে অবসাব।। চাঁদেরে কে চায় জোছনা সবাই যাচে গীত শেষে বীণা পড়ে থাকে ধূলি মাঝে;"
- ক)(1)
'সোনার তরী' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
- খ)(2)
'চারিদিকে বাঁকা জল'-এর মাধ্যমে কবি কী বলতে চেয়েছেন?
- গ)(3)
'সোনার তরী' কবিতার ধানের সাথে উদ্দীপকের গীতের তুলনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটি যেন 'সোনার তরী' কবিতার জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি"-'সোনার তরী' কবিতার আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত (পূর্ণ পর্ব ৮ মাত্রার)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'চারিদিকে বাঁকা জল'-এর মাধ্যমে কবি মহাকালের নিষ্ঠুর, অনিবার্য ও সর্বগ্রাসী রূপ এবং মানবজীবনের নিঃসঙ্গ সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করেছেন। নদীর প্রবহমান বাঁকা স্রোতের মতো মহাকাল নিরবচ্ছিন্নভাবে বয়ে চলেছে, যার স্রোতে ব্যক্তি মানুষের পার্থিব অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায় কিন্তু সৃষ্টি অমর রহে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সোনার তরী' কবিতার ধান এবং উদ্দীপকের 'গীত' উভয়েই ব্যক্তির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বা কর্মের প্রতীক।
'সোনার তরী' কবিতায় রূপক অর্থে 'ধান' হলো কৃষকরূপী কবির আজীবন সাধনার অমূল্য ফসল বা সৃষ্টিসম্ভার। মহাকালের প্রতীক 'সোনার তরী'তে কৃষক তার সমুদয় উৎপাদিত ধান তুলে দেয় এবং তা সমাদরে স্থান পায়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, গায়ক বা স্রষ্টার চেয়ে তার সৃষ্টি অর্থাৎ 'গান' মানুষের কাছে অধিক মূল্যবান। গান শেষ হলে গায়ক বা বীণার খোঁজ কেউ রাখে না, কেবল গানই মানুষের অন্তরে থেকে যায়।
অতএব, 'সোনার তরী'র ধান যেমন কবির অমর কর্মের প্রতীক যা মহাকালের তরণীতে স্থান পায়, উদ্দীপকের 'গীত'ও তেমনি স্রষ্টার সেই অবিনশ্বর সৃষ্টি যা ব্যক্তিমানুষের ঊর্ধ্বে সমাদৃত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটি হলো-
"চাঁদেরে কে চায় জোছনা সবাই যাচে
গীত শেষে বীণা পড়ে থাকে ধূলি মাঝে;"
উক্তিটি 'সোনার তরী' কবিতার মূল জীবনদর্শনের সাথে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ।'সোনার তরী' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেখিয়েছেন যে, মহাকাল কেবল মানুষের মহৎ সৃষ্টি বা কর্মকে গ্রহণ করে, কিন্তু রক্ত-মাংসের নশ্বর স্রষ্টাকে মহাকালের নৌকায় স্থান দেয় না। সেখানে কৃষক তার সব ধান সোনার তরীতে তুলে দেওয়ার পর নিজের ঠাঁই হয় না; তাকে শূন্য নদীর তীরে একাকী পড়ে থাকতে হয়।
উদ্দীপকের চরণ দুটিতেও এই চরম সত্য ফুটে উঠেছে। মানুষ চাঁদের চেয়ে তার আলো তথা জ্যোৎস্নাকে ভালোবাসে, এবং সঙ্গীত উপভোগ শেষে বাদ্যযন্ত্র বীণাকে ধূলিমাঝে অবহেলায় ফেলে রাখে। অর্থাৎ স্রষ্টা বা মাধ্যমের চেয়ে সৃষ্টিই মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত এবং স্থায়ী। স্রষ্টার এই নিঃসঙ্গ অবহেলা ও বিস্মৃতি এবং সৃষ্টির এই চিরন্তন গ্রহণযোগ্যতাই 'সোনার তরী' কবিতার মূল সুর।
সুতরাং, উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটি 'সোনার তরী' কবিতার সেই শাশ্বত জীবনদর্শনকেই সার্থকভাবে প্রতিফলিত করে যেখানে সৃষ্টি অমর হলেও স্রষ্টা ক্ষণস্থায়ী ও নশ্বর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও