মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
প্রত্যক্ষণ কী?
- খ)(2)
মনোভাব কীভাবে প্রত্যক্ষণকে প্রভাবিত করে?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এর চিত্রটি কোন ধরনের অধ্যাস? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর ‘ক’ ও ‘খ’ এর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংবেদনকে অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করে অর্থপূর্ণ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে প্রত্যক্ষণ (Perception) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তির মনোভাব প্রত্যক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো বস্তু, ব্যক্তি বা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যক্তির অনুকূল বা প্রতিকূল দৃষ্টিভঙ্গি তার প্রত্যক্ষণকে প্রভাবিত করে। যেমন— আমরা যাদের পছন্দ করি, তাদের সাধারণ বা ত্রুটিযুক্ত আচরণকেও ইতিবাচকভাবে দেখি বা প্রত্যক্ষণ করি। অন্যদিকে, যাদের আমরা অপছন্দ করি, তাদের ভালো কাজকেও অনেক সময় নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করি। এভাবে মনোভাব আমাদের কোনো বিষয়ের প্রতি সচেতনতা ও ব্যাখ্যার ধরন নির্ধারণ করে প্রত্যক্ষণকে প্রভাবিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এর চিত্রটি মনোবিজ্ঞানের বিখ্যাত ‘মুলার-লায়ার অধ্যাস’ (Müller-Lyer Illusion) নামক জ্যামিতিক অধ্যাস।
জার্মান মনোবিজ্ঞানী ফ্রাঞ্জ কার্ল মুলার-লায়ার ১৮৮৯ সালে এই অধ্যাসটি আবিষ্কার করেন। এই চিত্রে দুটি সমান দৈর্ঘ্যের সরলরেখা আঁকা রয়েছে। প্রথম রেখাটির দুই প্রান্তে বহির্মুখী তীরচিহ্ন (বা পাখার মতো ছড়ানো রেখাংশ) যুক্ত এবং দ্বিতীয় রেখাটির দুই প্রান্তে অন্তর্মুখী তীরচিহ্ন যুক্ত।
বস্তুগতভাবে রেখা দুটি সমান দৈর্ঘ্যের হওয়া সত্ত্বেও দৃষ্টিবিভ্রম বা জ্যামিতিক অধ্যাসের কারণে প্রথম রেখাটিকে (বহির্মুখী তীরযুক্ত) দ্বিতীয়টির (অন্তর্মুখী তীরযুক্ত) চেয়ে স্পষ্টতই বড় মনে হয়। উদ্দীপকের রেখাগুলোর বিন্যাস ও চোখের সঞ্চালনের পার্থক্যের ফলে এই ভুল প্রত্যক্ষণ বা অধ্যাসের সৃষ্টি হয়। তাই এটি একটি জ্যামিতিক অধ্যাস বা মুলার-লায়ার অধ্যাস।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ ‘সংবেদন অভিযোজন’ (Sensory Adaptation)-এর বিভিন্ন রূপ বা শ্রেণিবিভাগ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে গন্ধ অভিযোজন, শব্দ অভিযোজন এবং তাপ ও শৈত্য অভিযোজনের পাশাপাশি ‘ক’ ও ‘খ’ চিহ্ন দুটি যথাক্রমে দৃষ্টি অভিযোজনের দুটি রূপ— 'আলোক অভিযোজন' (Light Adaptation) ও 'অন্ধকার অভিযোজন' (Dark Adaptation)-কে নির্দেশ করে (অথবা সামগ্রিকভাবে দৃষ্টি অভিযোজন ও স্বাদ অভিযোজন)। নিচে দৃষ্টি অভিযোজনের এই দুটি প্রধান রূপের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সংজ্ঞা ও প্রকৃতি: অন্ধকার স্থান থেকে হঠাৎ তীব্র আলোতে এলে চোখের সংবেদনশীলতা কমে গিয়ে আলোর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আলোক অভিযোজন বলে। পক্ষান্তরে, উজ্জ্বল আলো থেকে হঠাৎ অন্ধকার স্থানে প্রবেশ করলে চোখের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়ে অন্ধকারের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে অন্ধকার অভিযোজন বলে।
২. সময়কাল: আলোক অভিযোজনের প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত ঘটে; সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে ১-২ মিনিটের মধ্যেই চোখ তীব্র আলোতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু অন্ধকার অভিযোজনের প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ; সম্পূর্ণ অন্ধকারে চোখ পুরোপুরি অভিযোজিত হতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লেগে যায়।
৩. শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া: আলোক অভিযোজনের ক্ষেত্রে চোখের রেটিনায় অবস্থিত 'রড' কোষগুলো নিষ্ক্রিয় বা কম কার্যকর হয়ে পড়ে এবং উজ্জ্বল আলোতে সংবেদনশীল 'কোন' কোষগুলো দ্রুত কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে। অন্যদিকে, অন্ধকার অভিযোজনে আলোর অভাবে 'কোন' কোষগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পায় এবং রেটিনার 'রড' কোষে রডোপসিন (Rhodopsin) নামক রঞ্জক পদার্থ পুনর্গঠিত হয়ে চোখকে ক্ষীণ আলো দেখতে সাহায্য করে।
পরিশেষে বলা যায়, আলোক অভিযোজন ও অন্ধকার অভিযোজন উভয়ই সংবেদন অভিযোজনের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যা পরিবর্তিত আলোক পরিস্থিতিতে আমাদের পরিবেশকে সফলভাবে প্রত্যক্ষ করতে সাহায্য করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও