জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • প্রাণীর পরিচিতি • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর:

  1. ক)

    অ্যাটরেশিয়া কী?

    (1)
  2. খ)

    আইশের কাজ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'Y' অঙ্গের গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি স্তন্যপায়ী থেকে ভিন্ন— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাকৃতিক পরিবেশে ডিম ছাড়তে না পারলে মাছের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুগুলোর অবক্ষয় ও বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে অ্যাটরেশিয়া (Atresia) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছের আইশের প্রধান কাজগুলো নিম্নরূপ:
    ১. বহিরাবরণ হিসেবে মাছের নরম দেহকে যান্ত্রিক আঘাত, ঘর্ষণ এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করা।
    ২. আইশ ও এর উপর অবস্থিত মিউকাস স্তর বিভিন্ন রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু ও পরজীবীর আক্রমণ প্রতিহত করে।
    ৩. আইশ ও পিচ্ছিল মিউকাস পানির ঘর্ষণজনিত বাধা হ্রাস করে পানিতে মাছের দ্রুত সন্তরণে সহায়তা করে।
    ৪. সাইক্লয়েড আইশে প্রতিবছর নতুন বৃদ্ধির বলয় বা অ্যানুলাস (Annulus) তৈরি হয়, যা দেখে মাছের বয়স ও বৃদ্ধি নির্ণয় করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'Y' অঙ্গটি হলো রুই মাছের ফুলকা (Gill)। রুই মাছের গলবিলের দুপাশে ৪ জোড়া ফুলকা থাকে। একটি আদর্শ ফুলকার গঠন নিম্নরূপ:

    ১. ফুলকা আর্চ (Gill Arch): ফুলকা যে অস্থিময় ধনুকের মতো বাঁকা কাঠামোর ওপর অবস্থান করে, তাকে ফুলকা আর্চ বলে। এটি ফুলকার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

    ২. ফুলকা রেকার (Gill Raker): ফুলকা আর্চের ভেতরের খাঁজে অবস্থিত কাঁটার মতো ক্ষুদ্র ও শক্ত প্রবর্ধকগুলোকে ফুলকা রেকার বলে। এগুলো গলবিল থেকে খাদ্যবস্তু ফুলকা প্রকোষ্ঠে প্রবেশে বাধা দেয় এবং ফুলকাকে রক্ষা করে।

    ৩. ফুলকা সূত্রক বা ফিলামেন্ট (Gill Filaments): আর্চের উত্তল বা পেছনের দিক থেকে দুটি সারিতে সাজানো সূক্ষ্ম চিরুনির দাঁতের মতো অংশগুলোকে ফুলকা সূত্রক বলে। প্রতিটি সূত্রক আবার অসংখ্য গৌণ ল্যামেলি (secondary lamellae) দ্বারা গঠিত। ল্যামেলিগুলো অত্যন্ত পাতলা আবরণী কলা ও কৈশিক রক্তজালকে সমৃদ্ধ, যার মাধ্যমে পানির দ্রবীভূত অক্সিজেনের সাথে রক্তের কার্বন ডাই-অক্সাইডের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত প্রক্রিয়াটি হলো মাছের 'একচক্রী রক্তসংবহন' (Single circuit circulation), যা স্তন্যপায়ী প্রাণীর 'দ্বিচক্রী রক্তসংবহন' (Double circuit circulation) থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন। নিচে এদের ভিন্নতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. চক্রের প্রকৃতি: মাছের দেহে রক্ত সম্পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে মাত্র একবার প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে, স্তন্যপায়ী প্রাণীতে প্রতিবার সম্পূর্ণ দেহ আবর্তিত হতে রক্ত হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুইবার (সিস্টেমিক ও পালমোনারি চক্রে) প্রবাহিত হয়।

    ২. হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের ভিন্নতা: উদ্দীপকের মাছের হৃৎপিণ্ড মূলত দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়)। বিপরীতে, স্তন্যপায়ী প্রাণীর হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ বিভক্ত চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়)।

    ৩. রক্তের ধরন ও মিশ্রণ: মাছের হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত (ডি-অক্সিজেনেটেড) রক্ত প্রবাহিত হয়, এজন্য মাছের হৃৎপিণ্ডকে 'ভেনাস হার্ট' বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলা হয়। কিন্তু স্তন্যপায়ীর হৃৎপিণ্ডের ডান অংশে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত এবং বাম অংশে সম্পূর্ণ পৃথকভাবে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয়, ফলে রক্ত কখনো মিশ্রিত হয় না।

    ৪. রক্তচাপ ও সঞ্চালন দক্ষতা: মাছের ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত প্রথমে ফুলকায় গিয়ে কৈশিক জালিকার বাধার মুখে পড়ে চাপ হারিয়ে ফেলে, ফলে খুব কম চাপে ধীরগতিতে দেহে পৌঁছায়। স্তন্যপায়ীতে ফুসফুস থেকে রক্ত পুনরায় হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসার পর শক্তিশালী নিলয়ের সংকোচনে উচ্চচাপে সারা দেহে কার্যকরভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

    সুতরাং, রক্ত সঞ্চালনের গতিপথ, চাপ, রক্তের ধরন ও শারীরস্থানিক গঠনের দিক থেকে উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন