অর্থনীতি ২য় পত্র • বাংলাদেশের শিল্প • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
পাট, চা, আখ ইত্যাদির উপর নির্ভর করে বাংলাদেশে পাটশিল্প, চিনিশিল্পের মত বহু শিল্প গড়ে উঠেছে। এক গবেষণায় দেখা যায় এই শিল্পের পাশাপাশি অনেক ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পও গড়ে উঠেছে। শক্তিসম্পদ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্পের উপজাতের সহজলভ্যতা এর অন্যতম কারণ।
- ক)(1)
আমদানি বিকল্প শিল্প কী?
- খ)(2)
“কুটির শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।” ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
বৃহৎ শিল্পের বিকাশ, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প সম্প্রসারণে সহায়ক—বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের গুরুত্ব আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি না করে সেসব পণ্য দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে যে শিল্প গড়ে তোলা হয়, তাকে আমদানি বিকল্প শিল্প (Import Substitution Industry) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কুটির শিল্প মূলত পরিবারভিত্তিক, যেখানে স্বল্প মূলধন ও স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যরা নিজের শ্রম দিয়ে পণ্য উৎপাদন করে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় এখানে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। কুটির শিল্প স্থাপনে বিপুল মূলধনের প্রয়োজন হয় না বলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীরা সহজে এতে যুক্ত হতে পারে। ফলে এটি অত্যন্ত স্বল্প খরচে বিপুল সংখ্যক মানুষের আত্মকর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকারত্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৃহৎ শিল্পের বিকাশ ও সম্প্রসারণ ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের (SME) বিকাশকে ত্বরান্বিত করে—উদ্দীপকের তথ্যে বিষয়টি যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
বৃহৎ শিল্প যখন গড়ে ওঠে, তখন তার প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ, কাঁচামাল সরবরাহ এবং উৎপাদিত উপজাত বা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি সহযোগী বা লিংকেজ শিল্পের প্রয়োজন হয়। আবার বৃহৎ শিল্পের উৎপাদিত মূল পণ্য অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রাথমিক কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, পাট ও চিনি শিল্পের মতো বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, শক্তি সম্পদ এবং বৃহৎ শিল্পের উপজাতের সহজলভ্যতার কারণে বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠেছে। যেমন—চিনি শিল্পের উপজাত চিটাগুড় বা বর্জ্য ব্যবহার করে অ্যালকোহল, স্পিরিট বা জৈব সার তৈরির ক্ষুদ্র কারখানা গড়ে ওঠে। আবার পাটকলগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস তৈরিতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা গড়ে ওঠে। এভাবে বৃহৎ শিল্পের বিকাশ অনুসারী শিল্প হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সম্প্রসারিত করতে সরাসরি সহায়তা করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মূলত কৃষিজাত কাঁচামালভিত্তিক বৃহৎ শিল্প (যেমন পাট ও চিনিশিল্প) এবং এদের সহযোগী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই শিল্পগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. কৃষিজাত কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার ও কৃষকের নায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: পাট, আখ ও চায়ের মতো কৃষিপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার ও বাণিজ্যিক মূল্য নিশ্চিত করে এই শিল্পগুলো। এতে কৃষকরা লাভবান হন এবং কৃষিখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
২. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশের মতো অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশে পাটশিল্প, চিনিশিল্প এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করে।
৩. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সঞ্চয়: পাট ও পাটজাত পণ্য এবং চা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। পাশাপাশি চিনি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আমদানি ব্যয় কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে।
৪. অগ্রপশ্চাৎ সংযোগ (Forward and Backward Linkage) সৃষ্টি: এ ধরনের শিল্প পরিবহন, প্যাকেজিং, বিপণন এবং উপজাত-ভিত্তিক ক্ষুদ্র কারখানা গড়ে তুলতে সহায়তা করে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ত্বরান্বিত করে।
৫. আঞ্চলিক উন্নয়ন: কাঁচামাল প্রাপ্তির সুবিধার্থে এসব শিল্প দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠায় গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ ঘটে।
সুতরাং, জাতীয় আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় সম্প্রসারণ এবং বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লিখিত শিল্পের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও