পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'X' রাষ্ট্রে বিচারকার্যে শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপের ফলে জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল। চার মাস আগে 'আমাদের দিন' পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রচার করে। রাজনৈতিক দলগুলো কর্মসূচি দেয়। জনগণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। জনদাবির মুখে সরকার বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করার আইন প্রণয়ন করে।।
- ক)(1)
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
বিচার বিভাগের প্রধান কাজ কোনটি?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনমতের কোন কোন বাহনগুলো প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাগের স্বাধীনতা কীভাবে রক্ষা করা যায়? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে একটি জাতির রাজনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সামগ্রিক রূপকে বোঝায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিচার বিভাগের প্রধান কাজ হলো দেশের প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ করে সুবিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচার করা। এছাড়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান ও অভিভাবক হিসেবে কাজ করা বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিচার বিভাগ নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য সম্পাদন করে সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনমত গঠনের অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে সংবাদপত্র (ছাপা মাধ্যম), টেলিভিশন (ইলেকট্রনিক মাধ্যম) এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিফলন ঘটেছে।
ব্যাখ্যা:
১. সংবাদপত্র: জনমত গঠনে ও প্রকাশে সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত জোরালো। উদ্দীপকে 'আমাদের দিন' পত্রিকায় বিচার বিভাগের ওপর শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা জনসচেতনতা তৈরির সূচনা করে।
২. টেলিভিশন চ্যানেল: আধুনিক যুগে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা টেলিভিশন জনমত সৃষ্টিতে তাৎক্ষণিক ও গভীর প্রভাব ফেলে। উদ্দীপকে টেলিভিশনে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে জনগণ বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
৩. রাজনৈতিক দল: রাজনৈতিক দল জনমতকে সংগঠিত করে নির্দিষ্ট রূপ দান করে। উদ্দীপকে রাজনৈতিক দলগুলো এই সমস্যা সমাধানে কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে রাজপথে নামায় এবং সংঘবদ্ধ করে।সুতরাং, সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও রাজনৈতিক দলের সমন্বিত ভূমিকায় উদ্দীপকের রাষ্ট্রে একটি বলিষ্ঠ জনমত গঠিত হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের চিত্র ও তার পুনরুদ্ধারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা অপরিহার্য। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার কার্যকর উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শাসন বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ: সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে, যাতে বিচারকরা নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে রায় প্রদান করতে পারেন।
২. বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা: বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা পরিহার করে মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
৩. চাকুরির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি ও স্থায়িত্ব: বিচারকদের অপসারণের পদ্ধতি কঠিন হতে হবে (যেমন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বা সংসদের কঠোর প্রক্রিয়া) যাতে সরকারের সন্তুষ্টির ওপর তাঁদের স্থায়িত্ব নির্ভর না করে।
৪. উপযুক্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: বিচারকদের আকর্ষণীয় ও পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে, যাতে তাঁরা কোনো প্রকার আর্থিক দুর্নীতি বা প্রলোভনের শিকার না হন।
৫. নিজস্ব বাজেট ও প্রশাসন: বিচার বিভাগের অর্থনৈতিক বরাদ্দ এবং নিজস্ব প্রশাসনিক কার্যক্রম তাদের নিজেদের অধীনে থাকা উচিত।পরিশেষে বলা যায়, উপযুক্ত পদক্ষেপ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখা সম্ভব, যার ফলে নাগরিকরা ন্যায়বিচার ভোগ করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও