ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • যৌথমূলধনী ব্যবসায় • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. A এবং মি. B তাসিন কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার ক্রয় করেছে। তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ যথাক্রমে ৩ লক্ষ ও ৫ লক্ষ টাকা। মি. A কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণপত্র পায় কিন্তু মি. B তা পায় না। এতে মি. B ক্ষুব্ধ। কোম্পানিটি বিলোপের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিলোপের পর মি. B বিনিয়োগকৃত ৫ লক্ষ টাকা ফেরত পেলেও মি. A তার বিনিয়োগ অপেক্ষা ১ লক্ষ টাকা কম পায়। এখন মি. B খুব খুশি।
- ক)(1)
বিধিবদ্ধ কোম্পানি কী?
- খ)(2)
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মি. B কোন ধরনের শেয়ারের মালিক? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কোম্পানির মালিকদ্বয়ের মধ্যে কে বেশি মর্যাদাপূর্ণ? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের আইনসভার বিশেষ আইন অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের বিশেষ অধ্যাদেশ বা আদেশবলে গঠিত ও পরিচালিত কোম্পানিকে বিধিবদ্ধ কোম্পানি (Statutory Company) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে যৌথ মূলধনী কোম্পানির সদস্যসংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ, যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং যা জনসাধারণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র ক্রয়ের আহ্বান জানাতে পারে না, তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এ জাতীয় কোম্পানির নামের শেষে 'প্রাইভেট লিমিটেড' বা '(প্রাঃ) লিঃ' লেখা বাধ্যতামূলক। এর পরিমেল নিয়মাবলিতে শেয়ার হস্তান্তরের ওপর বিধিনিষেধ থাকে এবং জনসাধারণের কাছে বিবরণপত্র বিলি করে মূলধন সংগ্রহ করা যায় না। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. B অগ্রাধিকার শেয়ারের (Preference Share) মালিক।
যে শেয়ারের মালিকগণ নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ প্রাপ্তি এবং কোম্পানি বিলোপসাধনের সময় মূলধন ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে অগ্রাধিকার লাভ করেন, তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে। অগ্রাধিকার শেয়ারের মালিকদের সাধারণত সাধারণ সভায় ভোটাধিকার বা উপস্থিত থাকার অধিকার থাকে না, তবে তাদের বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. B বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিতির আমন্ত্রণপত্র পাননি, যা নির্দেশ করে তার ভোটাধিকার বা সাধারণ সভায় যোগদানের অধিকার নেই। অপরদিকে, তাসিন কোম্পানি লিমিটেডের বিলোপসাধনের সময় মি. B অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তার পুরো বিনিয়োগকৃত ৫ লক্ষ টাকা ফেরত পান, যেখানে মি. A পুরো টাকা ফেরত পাননি। লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরতে অগ্রাধিকার পাওয়া এবং ভোটাধিকার না থাকার বৈশিষ্ট্যের কারণে মি. B অগ্রাধিকার শেয়ারের মালিক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কোম্পানির মালিকদ্বয়ের মধ্যে সামগ্রিক মর্যাদা ও প্রকৃত কর্তৃত্বের বিচারে মি. A বেশি মর্যাদাপূর্ণ।
যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগণই হলেন প্রকৃত মালিক। তারা বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) যোগদান, ভোটাধিকার প্রয়োগ, পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন এবং নীতি নির্ধারণে সরাসরি অংশগ্রহণের অধিকার ভোগ করেন। বিপরীতে, অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত পাওয়ার অগ্রাধিকার থাকলেও তারা কোনো ভোটাধিকার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পান না, ফলে কোম্পানি পরিচালনায় তাদের প্রকৃত কর্তৃত্ব থাকে না।
উদ্দীপকে মি. A সাধারণ শেয়ারের মালিক হওয়ায় কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগদানের জন্য আমন্ত্রণপত্র পান, যা তার প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার ও মর্যাদা নির্দেশ করে। তবে কোম্পানির প্রকৃত মালিক হিসেবে ব্যবসায়িক ঝুঁকিও তাকেই বহন করতে হয়। তাই বিলোপের সময় তিনি বিনিয়োগের চেয়ে ১ লক্ষ টাকা কম পান। অন্যদিকে, মি. B অগ্রাধিকার শেয়ারের মালিক হওয়ায় কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা সাধারণ সভায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি, কেবল পাওনাদারের মতো নিজের মূলধনের নিরাপত্তা পেয়েছেন।
সুতরাং, ঝুঁকি ও আর্থিক প্রাপ্তির বিচারে মি. B লাভবান হলেও প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রকৃত মালিকানার সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় মি. A-ই অধিক মর্যাদাপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও