অর্থনীতি ২য় পত্র • খাদ্য নিরাপত্তা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ভেজাল খাদ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    খাদ্য সংরক্ষণ করার প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    ভোক্তার আয়ের সাথে উদ্দীপকের কোন বিষয়টি অধিক সম্পর্কিত তা বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই নয় বরং সঠিক বণ্টন এবং ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করাই খাদ্য নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি” মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক খাদ্যের সাথে নিম্নমানের বা ক্ষতিকর কোনো কৃত্রিম উপাদান মেশানোকে কিংবা খাদ্যের পুষ্টি উপাদান নষ্ট করে এমন প্রক্রিয়াকরণকে ভেজাল খাদ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাদ্যদ্রব্যের অপচয় রোধ, পুষ্টিমান বজায় রাখা এবং অসময়ে খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য সংরক্ষণ করার প্রয়োজন।

    অনেক খাদ্যদ্রব্য (যেমন—ফলমূল, শাকসবজি, মাছ ইত্যাদি) নির্দিষ্ট মৌসুমে উৎপাদিত হয় এবং পচনশীল প্রকৃতির। সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে এসব খাদ্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার উপযোগী রাখা যায়। এছাড়া খাদ্য অপচয় কমানো, দুর্যোগকালীন সময়ে খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান করা এবং সারা বছর স্থিতিশীল মূল্যে খাদ্যের জোগান বজায় রাখার ক্ষেত্রে খাদ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভোক্তার আয়ের সাথে উদ্দীপকের ‘খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা’ (Food access) বিষয়টি অধিক সম্পর্কিত।

    উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি উপাদান তুলে ধরা হয়েছে: খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা এবং খাদ্যের ব্যবহার। এর মধ্যে খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা বলতে বাজারে খাদ্যসামগ্রী বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তা অর্জনের বা ক্রয় করার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সামর্থ্যকে বোঝায়।

    ভোক্তার আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে তার ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, ফলে সে পুষ্টিকর ও পর্যাপ্ত খাদ্য সহজে কিনতে পারে। পক্ষান্তরে, বাজারে খাদ্যের প্রচুর জোগান বা প্রাপ্যতা থাকলেও ভোক্তার আয় যদি অপর্যাপ্ত বা অতি সীমিত হয়, তবে সে খাদ্য ক্রয় করতে ব্যর্থ হয়। সুতরাং, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বা ভোক্তার আয় সরাসরি খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতাকে নির্ধারণ করে। তাই ভোক্তার আয়ের সাথে উদ্দীপকের ‘খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা’ দিকটি সবচেয়ে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই নয় বরং সঠিক বণ্টন এবং ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করাই খাদ্য নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি”— মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    খাদ্য নিরাপত্তা কেবল খাদ্যের ভৌত প্রাপ্যতা বা উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা প্রাপ্যতা (Availability), ক্রয়যোগ্যতা (Access) এবং সঠিক পুষ্টিমানসম্পন্ন ব্যবহারের (Utilization) সমন্বিত রূপ। উদ্দীপকের প্রবাহচিত্রেও এই তিনটি উপাদান স্পষ্ট করা হয়েছে।

    দেশে প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়ে মোট প্রাপ্যতা বাড়লেও যদি বিপণন ও বণ্টন ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে খাদ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে না। মজুতদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। আবার, বাজারে পর্যাপ্ত খাদ্যের জোগান থাকলেও যদি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় ও ক্রয়ক্ষমতা না থাকে, তবে তারা খাদ্য গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের দুর্ভিক্ষ তত্ত্বেও উল্লেখ রয়েছে যে, অনেক সময় খাদ্যের ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও বণ্টন বৈষম্য এবং ক্রয়ক্ষমতার অভাবে দুর্ভিক্ষ ঘটে।

    অতএব, একটি দেশের সব মানুষের জন্য সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারব্যবস্থার সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ বাড়িয়ে ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন