ভূগোল ১ম পত্র • ভূমিরূপ পরিবর্তন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বিচূর্ণীভবন কাকে বলে?
- খ)(2)
আগ্নেয়গিরি কীভাবে ভূমিরূপ পরিবর্তন করে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ৩নং ভূমিরূপের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ ও ২নং ভূমিরূপের পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান (যেমন- উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি) এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ার প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের শিলাসমূহের নিজ স্থানে ফেটে যাওয়া, ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া বা বিশ্লিষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়াকে বিচূর্ণীভবন (Weathering) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত লাভা, ভস্ম, গ্যাস ও শিলাখণ্ড বাইরে বেরিয়ে এসে সঞ্চিত হয়ে নতুন নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টি করে এবং বিদ্যমান ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়।
অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা ও অন্যান্য পদার্থ সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বত (যেমন- জাপানের ফুজিয়ামা), লাভা মালভূমি (যেমন- ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি) কিংবা সমভূমি তৈরি করে। আবার কখনো কখনো আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে পর্বতের শিখরদেশ উড়ে গিয়ে জ্বালামুখ বা ক্যালডেরা হ্রদ সৃষ্টি হয়। এছাড়া সাগরের তলদেশে লাভা সঞ্চিত হয়ে নতুন দ্বীপেরও সৃষ্টি হতে পারে। এভাবে আগ্নেয়গিরি আকস্মিকভাবে ভূপৃষ্ঠের দ্রুত পরিবর্তন সাধন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ৩নং ভূমিরূপটি হলো নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে মোহনায় গঠিত ‘ব-দ্বীপ’ (Delta)।
বর্ণনা:
১. সংজ্ঞা ও আকৃতি: নদীর নিম্নগতি বা মোহনায় নদীবাহিত পলি, বালি ও কাদা দীর্ঘকাল ধরে জমা হয়ে বাংলা ‘ব’ বা গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ)-এর মতো যে নতুন ভূখণ্ড গড়ে ওঠে, তাকে ব-দ্বীপ বলে।
২. গঠন প্রক্রিয়া: নদীর নিম্নগতিতে স্রোতের বেগ অত্যন্ত কমে যায়। ফলে নদী তার বাহিত পলি আর সাগরে নিয়ে ফেলতে পারে না। মোহনার অগভীর জলে এই পলি দীর্ঘদিন সঞ্চিত হয়ে ওপরের দিকে জেগে ওঠে। পরবর্তীকালে নদীর মূল স্রোত বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে এই দ্বীপকে ঘিরে সমুদ্রে পতিত হয়।
৩. বৈশিষ্ট্য: এটি অত্যন্ত উর্বর ও সমতল প্রকৃতির হয়, যা কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী। যেমন- গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার সম্মিলিত মোহনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ১নং ভূমিরূপটি হলো নদীর ক্ষয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ‘V-আকৃতির উপত্যকা’ এবং ২নং ভূমিরূপটি হলো হিমবাহের ক্ষয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ‘U-আকৃতির উপত্যকা’। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সৃষ্টিকারী প্রাকৃতিক শক্তি: ১নং (V-আকৃতির উপত্যকা) নদীপ্রবাহের নিম্নক্ষয় ও পার্শ্বক্ষয়ের কারণে গঠিত হয়। পক্ষান্তরে, ২নং (U-আকৃতির উপত্যকা) হিমবাহের নিম্নমুখী চলন ও ঘর্ষণের (অবনমন ও উৎপাটন প্রক্রিয়ায়) ফলে গঠিত হয়।
২. আকৃতি ও গঠন: নদীর পার্বত্য বা ঊর্ধ্বগতিতে নিম্নক্ষয় খুব তীব্র এবং পার্শ্বক্ষয় তুলনামূলক কম হওয়ায় উপত্যকা ইংরেজি 'V' অক্ষরের রূপ নেয়। অন্যদিকে, একটি পূর্ববর্তী নদী উপত্যকা দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় এর তলদেশ ও উভয় পার্শ্ব সমানভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত ও মসৃণ হয়ে ইংরেজি 'U' অক্ষরের রূপ নেয়।
৩. উপত্যকার তলদেশ ও ঢাল: ১নং উপত্যকার তলদেশ সরু ও গভীর হয় এবং এর পার্শ্বঢাল অত্যন্ত খাড়া ও অসমান হয়। পক্ষান্তরে, ২নং উপত্যকার তলদেশ সমতল ও প্রশস্ত হয় এবং পার্শ্বঢালগুলো প্রায় খাড়া দেওয়ালের মতো সোজা হয়ে থাকে।
৪. ভৌগোলিক অবস্থান: পার্বত্য অঞ্চলে নদীর গতিপথে V-আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, অত্যন্ত শীতল ও মেরু কিংবা উচ্চ পার্বত্য বরফাবৃত অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়ে U-আকৃতির উপত্যকা গঠিত হয়।
অতএব, উৎপত্তি, ক্ষয়কারী শক্তি এবং গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ১নং (নদী উপত্যকা) ও ২নং (হিমবাহ উপত্যকা) ভূমিরূপ দুটি পরস্পরের থেকে সুস্পষ্টভাবে ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও