অর্থনীতি • অর্থনীতি পরিচয়

অর্থনীতি প্রশ্ন

‘ক’ দেশে উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগসহ সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন। সেখানে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। অন্যদিকে ‘খ’ দেশে উৎপাদন ও বণ্টনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা সংস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়, যেখানে ব্যক্তিগত মুনাফার চেয়ে সামাজিক কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

  1. )

    ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য কী?

    (1)
  2. )

    মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. )

    উদ্দীপকের ‘ক’ দেশে কোন ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. )

    “‘খ’ দেশের অর্থব্যবস্থা ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সামাজিক কল্যাণকে বেশি প্রাধান্য দেয়”— উদ্দীপক ও পঠিত অধ্যায়ের আলোকে বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. )

    ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হলো সুদমুক্ত আমানত ও ব্যাংক ব্যবস্থা এবং জাকাত ও ফিতরা ভিত্তিক ন্যায়পরায়ণ সম্পদ বণ্টন ব্যবস্থা।

  2. )

    যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ যৌথভাবে অবস্থান করে, তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। এ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনকল্যাণে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

  3. )

    উদ্দীপকের ‘ক’ দেশে ধনতান্ত্রিক বা বাজার অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

    ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং সরকারের সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না। উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ক’ দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা ও অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং উৎপাদকদের প্রধান লক্ষ্য থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। এগুলো সবই ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মৌলিক উপাদান। সুতরাং, ‘ক’ দেশটির অর্থনীতি হলো ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

  4. )

    উদ্দীপকে বর্ণিত ‘খ’ দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা, যা মূলত ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সামাজিক কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়। উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কলকারখানা, জমি ও অন্যান্য সম্পদের মূল মালিক থাকে রাষ্ট্র বা সমাজ। এখানে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা সংস্থার আদেশের মাধ্যমে নীতি নির্ধারিত হয়। ফলে ব্যক্তিমালিকানাধীন অর্থনীতির মতো এখানে মুনাফাভিত্তিক প্রতিযোগিতা থাকে না। বরং সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং বৈষম্যহীন সম্পদ বণ্টনই এ ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ‘খ’ দেশে উৎপাদন ও বণ্টনের সকল সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করে এবং ব্যক্তিগত লাভের বদলে সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা হয়। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রই ঠিক করে কী পরিমাণ পণ্য উৎপাদিত হবে এবং কীভাবে তা জনগণের মধ্যে বণ্টিত হবে। ফলে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত মুনাফালাভের সুযোগ হ্রাস পায়, অন্যদিকে সাধারণ জনগণের কল্যাণ সুনিশ্চিত হয়। অতএব, বলা যায় ‘খ’ দেশের অর্থব্যবস্থা সামাজিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলনা ও প্রয়োগ করতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও