গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ • বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
জন্মদিন উপলক্ষে শায়লার স্বামী তাকে একগুচ্ছ ফুল উপহার দিলেন। শায়লা সেই ফুলগুলো থেকে ৩ টি ডালসহ ফুল নিয়ে সুন্দর করে সাজালেন। শায়লার বাড়িটি অত্যন্ত পুরানো হওয়ায় মেঝে এবং দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটা দাগ দেখা যায় এবং দেয়ালের রং উঠে যায়। এই জন্য বাড়ির সৌন্দর্য নিয়ে শায়লা বেশি চিন্তিত।
- ক)(1)
ব্লু-প্রিন্ট কী?
- খ)(2)
"বাসগৃহ একটি অন্যতম মৌলিক চাহিদা"— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শায়লা কোন পদ্ধতিতে ফুল সাজালেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে শায়লার সমস্যা কীভাবে সমাধান হতে পারে বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাস্তবে বাড়ি তৈরির জন্য প্রকৌশলী বা নকশাবিদ কর্তৃক বিশেষ কাগজে আঁকা সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত নকশাকে ব্লু-প্রিন্ট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাসগৃহ মানুষের অন্যতম প্রধান মৌলিক চাহিদা, কারণ এটি মানুষকে প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ (রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, শীত) এবং বন্যপ্রাণী ও ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করে নিরাপত্তা ও আশ্রয় দেয়। এছাড়া বাসগৃহ শুধু আশ্রয়ের স্থান নয়, এটি পরিবারের সদস্যদের বিশ্রাম, মানসিক প্রশান্তি, স্নেহ-ভালোবাসা ও সামাজিক জীবন বিকাশের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। তাই বাসগৃহ একটি অন্যতম মৌলিক চাহিদা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শায়লা জাপানি পদ্ধতির ‘ইকেবানা’ (Ikebana) বা রৈখিক পদ্ধতিতে ফুল সাজালেন।
জাপানি পুষ্পসজ্জা বা ইকেবানায় সাধারণত তিনটি মূল ডাল বা রেখা ব্যবহার করে স্বর্গ, মানুষ ও পৃথিবী—এই তিনটির প্রতীকী রূপ প্রকাশ করা হয়। এতে সবচেয়ে লম্বা ডালটি স্বর্গ (Shin), মাঝারি ডালটি মানুষ (Soe), এবং সবচেয়ে ছোট ডালটি পৃথিবী (Hikae)-কে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শায়লা তার উপহার পাওয়া ফুলগুলো থেকে ৩টি ডালসহ ফুল নিয়ে সুন্দর করে সাজিয়েছেন। তিনটি ভিন্ন মাত্রার ডাল দিয়ে সুবিন্যস্তভাবে ফুল সাজানো মূলত জাপানি ইকেবানা রীতিরই পরিচায়ক। অতএব, শায়লা জাপানি ইকেবানা পদ্ধতিতে ফুল সাজিয়েছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শায়লার পুরোনো বাড়ির মেঝে ও দেয়ালের ফাটল এবং বিবর্ণ রঙের সমস্যাগুলো স্বল্প খরচে গৃহসজ্জা ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
প্রথমত, দেয়ালের বিভিন্ন অংশের ফাটা দাগ ও বিবর্ণ রং দূর করার জন্য প্রথমে পুটিং বা সিমেন্ট দিয়ে ফাটলগুলো মেরামত করে নতুন করে আকর্ষণীয় রঙ বা চুনকাম করা যেতে পারে। বাজেটের সীমাবদ্ধতা থাকলে ফাটল বা বিবর্ণ অংশগুলো সুন্দর ওয়ালপেপার, দৃষ্টিনন্দন পেইন্টিং, পারিবারিক বাঁধানো ছবি কিংবা ওয়াল ম্যাট দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায়।
দ্বিতীয়ত, মেঝের ফাটা দাগ ও ত্রুটিগুলো আড়াল করতে সুন্দর নকশাদার কার্পেট, শতরঞ্জি বা মাদুর ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মেঝের ত্রুটি যেমন ঢাকা পড়বে, তেমনি ঘরের সৌন্দর্য ও আভিজাত্য বৃদ্ধি পাবে।
তৃতীয়ত, ঘরের নান্দনিকতা বাড়াতে জানালার উপযুক্ত রঙের পর্দা ব্যবহার, ইনডোর প্ল্যান্টস রাখা এবং পরিচ্ছন্নতার সাথে আসবাবপত্র যথাযথভাবে পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে।
অতএব, বড় ধরনের ব্যয়বহুল সংস্কার ছাড়াই সুরুচিপূর্ণ গৃহসজ্জার কৌশল ও সৃজনশীল উপায়ে দেয়াল ও মেঝের ত্রুটিগুলো আড়াল করে শায়লা সহজেই তার বাড়ির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে পারেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও