‍ইতিহাস ১ম পত্র • মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর অত্যাচারে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে তাদের এ দেশে আশ্রয় দেয়। বর্তমানে কক্সবাজার বৃহত্তর শরণার্থী শিবিরে রূপ নিয়েছে। এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলালায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে।

  1. ক)

    জাতিসংঘ কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মানবিক বিপর্যয়ের সাথে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত সমস্যার মোকাবেলাসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল অপর্যাপ্ত— তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনে বিদেশি প্রচার মাধ্যম অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিল। বিবিসি, আকাশবাণী, দ্য টাইমস, সানডে টাইমসসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা, বর্বরতা এবং বাঙালিদের আত্মত্যাগের খবর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয়। সাইমন ড্রিং, অ্যান্টনি মাসকারেনহাসের মতো সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবল সহানুভূতি সৃষ্টি করতে সাহায্য করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মানবিক বিপর্যয়ের সাথে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের শরণার্থী সমস্যার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের মুখে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা জীবন রক্ষার্থে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করার চিত্র ফুটে উঠেছে।

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও পাশবিক নির্যাতনের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় এক কোটি মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারত সরকার মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দেয় এবং শরণার্থীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় শিবির গড়ে তোলে। রোগবালাই, খাদ্যাভাব ও অপর্যাপ্ত আশ্রয়ের কারণে সেখানে এক চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল। সুতরাং, রোহিঙ্গাদের শরণার্থী জীবনের সাথে ১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রয় নেওয়া কোটি বাঙালি শরণার্থীর মানবিক বিপর্যয়ের হুবহু মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উল্লিখিত সমস্যার মোকাবেলাসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল অপর্যাপ্ত”— উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী পূর্ব বাংলায় ইতিহাসের অন্যতম বর্বরতম গণহত্যা চালায় এবং এক কোটিরও বেশি মানুষকে ভারতে শরণার্থী হতে বাধ্য করে। একটি বৈশ্বিক শীর্ষ সংস্থা হিসেবে জাতিসংঘের দায়িত্ব ছিল শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও গণহত্যা বন্ধ করা। কিন্তু বৃহৎ শক্তিগুলোর রাজনৈতিক স্বার্থ ও স্নায়ুযুদ্ধের কারণে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা ছিল মূলত বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে ব্যাহত করার চক্রান্ত, যা তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রয়োগে বাতিল হয়ে যায়। জাতিসংঘ সরাসরি যুদ্ধ বন্ধ বা গণহত্যা প্রতিরোধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে শরণার্থী সমস্যার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কিছুটা ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছিল, যা ছিল মোট চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপর্যাপ্ত।

    অতএব, গণহত্যা বন্ধে রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা এবং মানবিক ত্রাণের সীমাবদ্ধতার বিচারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের সার্বিক ভূমিকা নিঃসন্দেহে অপর্যাপ্ত ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন