বিজ্ঞান • দেখতে হলে আলো চাই • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

বিজ্ঞান প্রশ্ন

ইদানীং পাভেল ক্লাসে স্যারের বোর্ডের লেখা কাছ থেকে দেখতে পায় কিন্তু দূর থেকে দেখতে পায় না। অপরদিকে প্রায়ই রাসেলের চোখ লাল হয় এবং চুলকায়। এমতাবস্থায় তারা দুজনই ডাক্তারের নিকট যায়। ডাক্তার তাদের চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাভেলকে চশমা ব্যবহারের নির্দেশ দিলেন এবং রাসেলের চোখের যত্নের জন্য বেশ কিছু উপদেশসহ ব্যবস্থাপত্র দিলেন।

  1. ক)

    আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পাহাড়ি রাস্তায় গোলীয় দর্পণ ব্যবহার করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    ডাক্তারের দেওয়া চশমাটি কীভাবে পাভেলকে দেখতে সাহায্য করবে? সচিত্র ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাসেলকে ডাক্তারের দেওয়া উপদেশ মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে পড়লে মাধ্যম দুটির বিভেদতলে এর গতিপথের দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।

  2. খ)

    পাহাড়ি রাস্তা আঁকাবাঁকা এবং অনেক বাঁক প্রায় ৯০° হয়। বাঁকের ওপাশ থেকে কোনো গাড়ি আসছে কি না বোঝা যায় না, যা বিপজ্জনক। তাই বাঁকে বড় আকারের গোলীয় দর্পণ স্থাপন করা হয়। এই দর্পণে অনেক বেশি এলাকা দেখা যায়। ফলে ড্রাইভার ওপাশের গাড়ি দেখে গতি নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদে চালাতে পারে।

  3. গ)

    পাভেল কাছের বস্তু দেখতে পায় কিন্তু দূরের বস্তু পায় না। সে হ্রস্বদৃষ্টি বা ক্ষীণদৃষ্টি (Myopia) ত্রুটিতে আক্রান্ত। ডাক্তারের চশমাটি অবতল লেন্সের।

    সচিত্র ব্যাখ্যা: চিত্রে দুটি অংশ আঁকতে হবে।
    (ক) ত্রুটিযুক্ত চোখ: দূরের বস্তু থেকে আসা সমান্তরাল রশ্মি চোখের লেন্সে প্রতিসরণের পর রেটিনার সামনে F বিন্দুতে মিলিত হয়। তাই প্রতিবিম্ব অস্পষ্ট হয়।
    (খ) চশমা পরা চোখ: চোখের সামনে অবতল লেন্স L বসালে এটি রশ্মিগুলোকে আগে অপসারী করে। অপসারিত রশ্মি চোখের লেন্সে প্রতিসরণের পর রেটিনা R এর ওপর মিলিত হয়। এতে রেটিনায় স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

    কারণ এ ত্রুটিতে চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা বেশি থাকে বা অক্ষিগোলক লম্বা থাকে। অবতল লেন্সের অপসারী ক্রিয়া তা সংশোধন করে। ফলে পাভেল বোর্ডের লেখা স্পষ্ট দেখতে পাবে।

  4. ঘ)

    উত্তর : রাসেলকে দেওয়া উপদেশের মূল্যায়ন

    রাসেলের চোখ প্রায়ই লাল হয় ও চুলকায়। এটি চোখের সংক্রমণ বা এলার্জির লক্ষণ হতে পারে। ডাক্তার চোখের যত্নের যেসব উপদেশ দিয়েছেন, সেগুলো সবই যুক্তিযুক্ত ও কার্যকর বলে আমি মনে করি।

    পাঠ্যবইয়ে চোখ ভালো রাখার যেসব উপায়ের কথা আছে, সেগুলোর আলোকে ডাক্তারের উপদেশ হওয়া উচিত—

    ১. সঠিক পুষ্টি : ভিটামিন এ, সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার, গাঢ় সবুজ শাকসবজি, গাজর, মাছ, পাকা পেঁপে, আমের মতো হলুদ ফল খেতে হবে। এগুলো চোখকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

    ২. সঠিক জীবনযাপন : পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, ধূমপান থেকে বিরত থাকা এবং রোদে অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী সানগ্লাস ব্যবহার করা চোখের যত্নের অংশ।

    ৩. ক্ষতি থেকে সুরক্ষা : ধুলাবালি, উত্তপ্ত কণা ও রাসায়নিক পদার্থ থেকে চোখ রক্ষা করতে হবে। লাল ও চুলকানির সময় চোখ না কচলে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নেওয়া এবং ময়লা হাত বা কাপড় না লাগানো উচিত।

    ৪. পর্যাপ্ত আলো ও বিশ্রাম : পর্যাপ্ত আলোতে পড়া, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল-টিভি-কম্পিউটারের দিকে না তাকানো এবং প্রতি ২০ মিনিট পরপর ২০ সেকেন্ডের জন্য দূরে তাকানো চোখের ক্লান্তি কমায়।

    ৫. ডাক্তারের পরামর্শ : ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার এবং প্রয়োজনে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে।

    সুতরাং, এই উপদেশগুলো মানলে রাসেলের চোখের সংক্রমণ বা অস্বস্তি কমবে এবং ভবিষ্যতে চোখের ক্ষতি এড়ানো যাবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন