পৌরনীতি ও নাগরিকতা • নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয় • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
নবিন ও নিলয় দুই বন্ধু মিলে একটি গরুর খামার করে লভ্যাংশ আনুপাতিক হারে ভাগ করে নেয়ার চুক্তি করে। সততার সাথে ব্যবসায় তারা যথেষ্ট সুনাম অর্জন করে। রবিন একই এলাকার ছেলে। সে অসৎ প্রকৃতির। এমতাবস্থায় রবিন, নবিন ও নিলয়ের সাথে ব্যবসা করার প্রস্তাব দিলে তারা অস্বীকৃতি জানায়। রবিন ক্ষুদ্ধ হয়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
- ক)(1)
আইনগত সাম্য কী?
- খ)(2)
সামাজিক সাম্য বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের সামাজিক সমস্যা প্রকাশ পায় তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সমস্যাটি থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান এবং আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়াকে আইনগত সাম্য বলে।
- খ)
সামাজিক সাম্য বলতে সমাজের সকল মানুষের জন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ বা সম্পদ নির্বিশেষে সমান সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা বোঝায়।
এখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা বা সুযোগ থাকে না। জন্ম, পদবি বা বংশের কারণে কেউ উঁচু-নিচু গণ্য হয় না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি ও জনজীবনে সবার সমান সুযোগ থাকাই সামাজিক সাম্যের মূল কথা।
- গ)
উদ্দীপকে সন্ত্রাস নামক সামাজিক সমস্যার প্রকাশ ঘটেছে।
সন্ত্রাস হলো ভয়ভীতি, হুমকি বা শক্তি প্রয়োগ করে নিজের স্বার্থ আদায়ের চেষ্টা। উদ্দীপকে রবিন অসৎ প্রকৃতির, সে নবিন ও নিলয়ের ব্যবসায় জোর করে অংশ নিতে চেয়েছিল। তারা রাজি না হওয়ায় সে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এটি সন্ত্রাসী আচরণ, যা সমাজে নিরাপত্তাহীনতা, ভয় ও অশান্তি সৃষ্টি করে এবং সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য হুমকি।
- ঘ)
উদ্দীপকের সমস্যাটি সন্ত্রাস। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য আমার মতে নিচের উপায়গুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন:
১. আইনের কঠোর প্রয়োগ: সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এতে অন্যরা অপরাধে নিরুৎসাহিত হবে।
২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা: পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে নিরপেক্ষ, সক্রিয় ও দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে।
৩. শিক্ষা ও নৈতিকতা: ছোটবেলা থেকে পরিবার ও বিদ্যালয়ে নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখানো দরকার।
৪. কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূরীকরণ: বেকার যুবকরা যাতে অপরাধে না জড়ায়, সেজন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
৫. সামাজিক সচেতনতা: জনগণকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে হবে এবং গণমাধ্যম সচেতনতা বাড়াতে পারে।
সুতরাং, আইনের প্রয়োগ, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়েই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও