বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    "অপরাজেয় বাংলা' কী?

    (1)
  2. খ)

    ২৫ মার্চ রাতকে 'কালরাত্রি' বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন ঘটনার সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনাটি "বাঙালি জাতির তাহংকার ও গৌরবের প্রতীক"- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ‘অপরাজেয় বাংলা’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য, যা শিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ নির্মাণ করেছেন।

  2. খ)

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা অপারেশন সার্চলাইটের নামে ঢাকায় অতর্কিত হামলা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায় তারা নির্বিচারে নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে। অন্ধকার রাতে এই নৃশংস গণহত্যা বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত। তাই এ রাতকে ‘কালরাত্রি’ বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি (জাতীয় স্মৃতিসৌধ) বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঢাকা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাভারে অবস্থিত। মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না-জানা শহিদের অমর স্মৃতির উদ্দেশে এটি নির্মিত। স্থপতি মঈনুল হোসেনের নকশায় সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল ধাপে ধাপে ১৫০ ফুট উচ্চতায় উঠেছে।

    এই সাত জোড়া দেয়াল ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতীক। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে এই ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। পাশে গণকবর রয়েছে, যাঁদের জীবনের বিনিময়ে দেশ শত্রুমুক্ত হয়েছে।

    সুতরাং চিত্রে প্রদর্শিত স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও তার শহিদদের সঙ্গে সম্পর্কিত।

  4. ঘ)

    মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির অহংকার ও গৌরবের প্রতীক, এই মন্তব্য যথার্থ।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘ ২৪ বছরের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালির চূড়ান্ত সংগ্রাম। এ যুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি তার স্বাধীন রাষ্ট্র, লাল-সবুজ পতাকা ও জাতীয় পরিচয় পেয়েছে।

    ১. জনযুদ্ধের গৌরব: মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণযুদ্ধ। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেয়। মাত্র তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ ও হালকা অস্ত্র নিয়ে তারা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর মোকাবিলা করে।

    ২. ত্যাগের মহিমা: নয় মাসের যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহিদ হন এবং দুই লাখের অধিক মা-বোন নির্যাতিত হন। এই ত্যাগ জাতির আত্মমর্যাদার ভিত্তি।

    ৩. বিশ্ব ইতিহাসে তাৎপর্য: বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের প্রথম দেশ, যে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এটি জাতির জন্য গৌরবের।

    ৪. প্রেরণার উৎস: জাতীয় স্মৃতিসৌধ, অপরাজেয় বাংলা, শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের মতো স্মৃতিস্তম্ভ নতুন প্রজন্মকে এই ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    যদিও এই বিজয়ের পেছনে অসংখ্য মানুষের প্রাণ গেছে, তাই এটি যেমন গর্বের তেমনই বেদনার। তবু সেই ত্যাগই আমাদের গৌরবকে অর্থবহ করেছে।

    অতএব, মুক্তিযুদ্ধ নিঃসন্দেহে বাঙালি জাতির অহংকার ও গৌরবের প্রতীক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন