বিজ্ঞান • হৃদযন্ত্রের যত কথা এবং অন্যান্য • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

বিজ্ঞান প্রশ্ন

  1. ক)

    Rh ফ্যাক্টর কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    রক্তের রং লাল হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    A উপাদানটির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    B ও C রক্ত কণিকার সংখ্যা বেড়ে গেলে বা কমে গেলে মানবদেহে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রেসাস বানরের লোহিত রক্তকণিকায় পাওয়া এক ধরনের অ্যান্টিজেনকে (যা অনেক মানুষের লোহিত কণিকাতেও থাকে) Rh ফ্যাক্টর বলে। যাদের রক্তে এটি থাকে তারা Rh+ এবং যাদের থাকে না তারা Rh-।

  2. খ)

    রক্তে হিমোগ্লোবিন নামে লৌহঘটিত লাল রঙের প্রোটিনজাতীয় রঞ্জক পদার্থ থাকে। লোহিত রক্তকণিকা এই হিমোগ্লোবিনে ভরা থাকে। হিমোগ্লোবিনের কারণেই রক্ত দেখতে লাল হয়। এটি অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

  3. গ)

    A উপাদানটি হলো লোহিত রক্তকোষ (Red Blood Cell বা RBC), যার বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ—

    ১. আকৃতি: মানবদেহের পরিণত লোহিত কোষ দ্বি-অতল (উভয় দিক খাঁজযুক্ত) চাকতি আকৃতির।

    ২. হিমোগ্লোবিন: এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে, যার জন্য এদের লাল দেখায়। এটি প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা ব্যাগের মতো, তাই অধিক পরিমাণ অক্সিজেন বহন করতে পারে।

    ৩. নিউক্লিয়াস: স্তন্যপায়ী প্রাণীর লোহিত কোষ রক্তরসে আসার আগেই নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। পরিণত লোহিত কোষের বিভাজন হয় না।

    ৪. উৎপত্তি: এগুলো সর্বক্ষণ অস্থিমজ্জার ভেতরে তৈরি হয় এবং তারপর রক্তরসে চলে আসে।

    ৫. সংখ্যা ও আয়ু: প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে পূর্ণবয়স্ক পুরুষে ৪.৫-৫.৫ মিলিয়ন এবং নারীতে ৪-৫ মিলিয়ন। মানুষের লোহিত কোষের গড় আয়ু প্রায় ১২০ দিন।

    ৬. সঞ্চয়: লোহিত কোষ প্লীহায় সঞ্চিত থাকে এবং প্রয়োজনে রক্তরসে সরবরাহ হয়।

    ৭. কাজ: দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা, কিছু কার্বন ডাই-অক্সাইড টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা এবং বাফার হিসেবে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা রক্ষা করা।

  4. ঘ)

    চিত্র অনুযায়ী B হলো শ্বেত রক্তকোষ এবং C হলো অণুচক্রিকা। এই দুটির সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে বা কমে গেলে মানবদেহে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

    শ্বেত রক্তকোষ (B)—সংখ্যা বাড়লে: দেহে জীবাণু সংক্রমণ হলে শ্বেত কোষের সংখ্যা বাড়ে। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদিতে সংখ্যা স্বাভাবিকের বেশি হলে তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে যে বৃদ্ধি হয়, তার চেয়ে অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। (স্বাভাবিক সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিমিটারে ৪০০০-১০,০০০।)

    শ্বেত রক্তকোষ (B)—সংখ্যা কমলে: শ্বেত কোষ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান কোষ। তাই এর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে দেহ জীবাণুর আক্রমণ সহজে প্রতিরোধ করতে পারে না এবং বারবার সংক্রমণে আক্রান্ত হয়।

    অণুচক্রিকা (C)—সংখ্যা বাড়লে: অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তাকে থ্রম্বোসাইটোসিস বলে। এতে রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে থ্রম্বোসিস হতে পারে। হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে জমাট বাঁধলে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে জমাট বাঁধলে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস হয়। (স্বাভাবিক সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিমিটারে ১.৫ থেকে ৪.৫ লাখ।)

    অণুচক্রিকা (C)—সংখ্যা কমলে: অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে। তাই সংখ্যা কমে গেলে ক্ষত হলে রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না। ডেঙ্গুজ্বরে অণুচক্রিকা কমে ত্বকের নিচে রক্তপাত (পারপুরা) হতে পারে।

    সুতরাং, B ও C এর ভারসাম্য রক্ষা না হলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও রক্ত তঞ্চনের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন