সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

সীমা আক্তার ও কল্পনা রায় উভয়েরই ধার্মিক ও দানশীল হিসেবে বেশ খ্যাতি আছে। সীমা আক্তার তার সম্পদের কিছু অংশ জনকল্যাণমূলক কাজে এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করেন। কল্পনা রায় পাপমোচন, স্বর্গলাভ ও ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য তার সম্পদের একটি অংশ উৎসর্গ করেন।

  1. ক)

    ধর্মগোলা কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক নিরাপত্তা ধারণাটি বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সীমা আক্তারের কর্মকাণ্ড কোন ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সীমা আক্তার ও কল্পনা রায়ের কর্মকাণ্ড কীভাবে জনকল্যাণে ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধর্মগোলা হলো ঐতিহ্যবাহী এমন একটি শস্যভাণ্ডার, যেখানে ফসল ওঠার মৌসুমে উদ্বৃত্ত শস্য জমা রাখা হতো এবং দুর্ভিক্ষ বা আপৎকালীন সময়ে কৃষকদের মধ্যে তা বিতরণ বা ধার দেওয়া হতো।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক নিরাপত্তা বলতে রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক গৃহীত এমন সব নিরাপত্তামূলক ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা মানুষকে আকস্মিক বিপদ-আপদ, অসুস্থতা, বেকারত্ব, বার্ধক্য কিংবা পঙ্গুত্বকালীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে। এটি প্রধানত তিন ধরনের—সামাজিক বীমা, সামাজিক সাহায্য এবং সমাজসেবা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সীমা আক্তারের কর্মকাণ্ড ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'ওয়াকফ'-কে নির্দেশ করে।

    ইসলামি আইন অনুযায়ী কোনো মুসলমানের স্বীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি পার্থিব কোনো স্বার্থ ছাড়া একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলে। ওয়াকফকৃত সম্পত্তির মূল মালিকানা আল্লাহর কাছে সমর্পিত হয় এবং এর স্বত্ব কখনও বিক্রয় বা স্থানান্তর করা যায় না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সীমা আক্তার একজন ধার্মিক ও দানশীল ব্যক্তি যিনি সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর সম্পদের একটি অংশ জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসর্গ করেন। ওয়াকফের সংজ্ঞার্থ ও বৈশিষ্ট্যের সাথে সীমা আক্তারের এ রূপ দানশীলতা পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় এটি ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সীমা আক্তারের কর্মকাণ্ড ইসলামি সংস্কৃতির 'ওয়াকফ' এবং কল্পনা রায়ের কর্মকাণ্ড হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতির 'দেবোত্তর' ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত। এই উভয় ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানই জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:

    ১. অসহায় ও দরিদ্রের সহায়তা: ওয়াকফ এবং দেবোত্তরকৃত সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় দরিদ্র, অনাথ, প্রতিবন্ধী ও নিঃস্ব মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও আশ্রয়ের সংস্থানে ব্যবহৃত হয়।
    ২. শিক্ষা বিস্তার: ওয়াকফ ও দেবোত্তর সম্পত্তির অর্থে যুগে যুগে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, পাঠশালা, টোল ও লাইব্রেরি গড়ে উঠেছে, যা সমাজে সার্বিক শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রেখেছে।
    ৩. স্বাস্থ্যসেবা প্রদান: এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অতীত থেকে দাতব্য চিকিৎসালয়, হাসপাতাল এবং আরোগ্যশালা পরিচালিত হয়ে আসছে, যা দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসায় সাহায্য করে।
    ৪. ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি: সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় মানুষ সম্পদ উৎসর্গ করায় সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও সেবামূলক মনোভাবের বিকাশ ঘটে।
    ৫. সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন: সরাইখানা, পান্থশালা, পুকুর খনন ও জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী রাস্তাঘাট তৈরিতেও এ ধরনের জনহিতকর সম্পত্তি ব্যয় করা হয়।

    সুতরাং, সীমা আক্তার ও কল্পনা রায়ের মতো দানশীল ব্যক্তিদের ধর্মীয় প্রেরণায় করা এসব কর্মকাণ্ড শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অবহেলিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক জনকল্যাণে কার্যকর অবদান রেখে চলেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন