বাংলা ১ম পত্র • মমতা-দি • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'পুরাতন ভৃত্য' কবিতায় পুরাতন ভৃত্য কেষ্টা সম্পর্কে বলেছেন-(i) তিনখানা দিলে একখানা রাখে, বাকি কোথা নাহি জানে;একখানা দিলে নিমেষ ফেলিতে তিনখানা করে আনে।যেখানে-সেখানে দিবসে-দুপুরে নিদ্রাটি আছে সাধা।(ii) ঘরের কত্রী রুক্ষ মূর্তি বলে, আর পারি নাকোরহিল তোমার এ ঘর, দুয়ার, কেষ্টারে লয়ে থাকো।শুনে মহা বেগে ছুটে যাই রেগে আনি তার টিকি ধরে;বলি তারে 'পাজি বের হ তুই আজই, দূর করে দিনু তোরে।'

  1. ক)

    মমতাদির কপালের ক্ষতটা কীসের মতো?

    (1)
  2. খ)

    মমতাদির দুচোখ সজল হয়ে উঠল কেন? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক (ii)-এর ঘরের কত্রীর সাথে 'মমতাদি' গল্পের ছোটোকর্তার মায়ের বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।'

    (3)
  4. ঘ)

    "সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক (i)-এর কেষ্টা, 'মমতাদি' গল্পের মমতাদি হয়ে উঠতে পারেনি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মমতাদির কপালের ক্ষতটা টিপের মতো।

  2. খ)

    মমতাদি রাঁধুনির কাজ চাইতে এসেছিলেন। মাসিক বেতন পনেরো টাকা ঠিক হলে তিনি আশা করেছিলেন বড়জোর বারো টাকা; প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পাওয়ায় কৃতজ্ঞতায় তাঁর দুচোখ সজল হয়ে ওঠে। স্বামীর চাকরি না থাকায় সংসার চলছিল না, তাই এই কাজ তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত জরুরি। আত্মসম্মানী মমতাদি কৃতজ্ঞতা মুখে প্রকাশ না করে নীরবে চোখের জলে তা প্রকাশ করেছেন।

  3. গ)

    উদ্দীপক (ii)-এর ঘরের কত্রীর সঙ্গে ‘মমতাদি’ গল্পের ছোটোকর্তার মায়ের পার্থক্য আচরণ ও মানবিকতায়।

    ‘মমতাদি’ গল্পে ছোটোকর্তার মা একজন সহানুভূতিশীল, কোমলহৃদয় নারী। মমতাদি কাজ চাইতে এলে তিনি ‘কোমল স্বরে’ বলেছিলেন, ‘বোসো বাছা’। মমতাদির স্বামীর চাকরি হলে তিনি তাঁকে কাজ ছেড়ে দেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন, বলেছেন, ‘তোমার কষ্ট দূর হয়েছে তাতে আমরাও খুব সুখী’, ‘তোমার ওপর মায়া বসেছে’। অর্থাৎ তিনি গৃহকর্মীকে আপন মানুষ ও সম্মানের পাত্র হিসেবে দেখেছেন।

    অন্যদিকে উদ্দীপক (ii)-এর ঘরের কত্রী ‘রুক্ষ মূর্তি’ ধারণ করে বলেছেন, ‘আর পারি নাকো’, এবং ভৃত্য কেষ্টাকে সংসার থেকে তাড়িয়ে দিতে স্বামীকে বাধ্য করতে চেয়েছেন। তাঁর আচরণে রুক্ষতা, অসহিষ্ণুতা ও সহানুভূতির অভাব স্পষ্ট।

    সুতরাং ছোটোকর্তার মা কোমল, মানবিক ও সহমর্মী, আর ঘরের কত্রী রুক্ষ ও অসহিষ্ণু— এখানেই তাঁদের বৈসাদৃশ্য।

  4. ঘ)

    “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক (i)-এর কেষ্টা ‘মমতাদি’ গল্পের মমতাদি হয়ে উঠতে পারেনি”— মন্তব্যটি যথার্থ। দুজনেই অন্যের বাড়িতে কাজ করা মানুষ, কিন্তু চরিত্রের গভীরতায় ও মর্যাদাবোধে মমতাদি কেষ্টার চেয়ে অনেক এগিয়ে।

    সাদৃশ্য: কেষ্টা ও মমতাদি দুজনেই অভাব-অনটন আর পরনির্ভরতার কারণে অন্যের সংসারে কাজ করেন এবং উভয়েই সংসারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে জড়িয়ে যান। উভয়ের প্রতি গৃহকর্তা বা বাড়ির সদস্যের আচরণে সহানুভূতি ও রাগ— দুই দিকই দেখা যায়।

    পার্থক্য:

    ১. কর্মদক্ষতা: উদ্দীপক (i)-এ কেষ্টা ‘তিনখানা দিলে একখানা রাখে, বাকি কোথা নাহি জানে’, কাজে অগোছালো ও ভুলোমনা। অপরদিকে মমতাদি ‘বিনা আড়ম্বরে নিখুঁত’ কাজ করেন, নির্দেশের অভাবে কাজ ফেলে রাখেন না, নিজের বুদ্ধিতে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেন।

    ২. কর্তব্যনিষ্ঠা: কেষ্টা ‘যেখানে-সেখানে দিবসে-দুপুরে’ ঘুমিয়ে পড়ে। মমতাদি স্বামীর চাকরি হওয়ার পরও প্রয়োজনের তাগিদে ও দায়িত্ববোধে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চান।

    ৩. আত্মমর্যাদাবোধ: মমতাদি অভাবে পড়েও আত্মসম্মান বিসর্জন দেননি। করুণা মিশ্রিত সম্মান তাঁর সহ্য হয়নি, তাই চোখের জল ফেলেছেন; ছোটোকর্তা মাকে সন্দেহ বা অসম্মান করলে তিনি কাজ ছেড়ে দিতেন। কেষ্টার চরিত্রে এই মর্যাদাবোধের প্রকাশ নেই; সে কেবল তিরস্কার সহ্য করে চলে।

    ৪. স্নেহ ও মানবিকতা: মমতাদি নিজে ক্ষত নিয়েও খোকার প্রতি অকৃত্রিম স্নেহ ঢেলে দেন, ‘কারো কাছে যা পাই না, তুমি তা দেবে কেন?’— এই আকুতি তাঁর হৃদয়ের গভীরতা দেখায়। কেষ্টা উদ্দীপকে এমন ব্যক্তিত্ব বা গভীরতা দিয়ে চিত্রিত হয়নি।

    অতএব সাদৃশ্য থাকলেও কর্মদক্ষতা, আত্মমর্যাদা ও মানবিক গভীরতায় কেষ্টা মমতাদির সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি। মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন