বিজ্ঞান • হৃদযন্ত্রের যত কথা এবং অন্যান্য • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

বিজ্ঞান প্রশ্ন

i) আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে টমোগ্রাফি পদ্ধতিতে এক্স-রে টিউব রোগীর শরীরে বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে অনেকগুলো প্রতিচ্ছবি নিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়।(ii) মানবদেহে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতি।

  1. ক)

    সিরাম কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ই.সি.জি. কেন করা হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    (i) নং চিকিৎসা পদ্ধতিতে শরীরের যে সব অঙ্গের কাজ করা সম্ভব তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের (ii) নং চিকিৎসা পদ্ধতির ঝুঁকি এবং প্রতিক্রিয়া এড়াবার কৌশল সম্পর্কে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রক্ত থেকে রক্তকোষ এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরিয়ে নেওয়ার পর যে স্বচ্ছ তরল থাকে, তাকে সিরাম বলে। রক্ত জমাট বাঁধার পর যে স্বচ্ছ রস পাওয়া যায়, সেটিই সিরাম।

  2. খ)

    ই.সি.জি. হলো ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম, যা হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের রেখাচিত্র। এটি করে হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের হার, ছন্দের অস্বাভাবিকতা ও হৃদরোগের লক্ষণ ধরা যায়। বুকে ব্যথা বা করোনারি হৃদরোগের সন্দেহ হলে দ্রুত ইসিজি করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের (i) নং পদ্ধতিটি টমোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যান। এর মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের রোগ নির্ণয়ের কাজ করা সম্ভব।

    এই পদ্ধতিতে এক্স-রে টিউব রোগীর শরীরের চারদিকে বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে বিভিন্ন কোণ থেকে অনেকগুলো প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয়। কম্পিউটার এসব প্রতিচ্ছবি একত্র করে শরীরের কাটা অংশের (ক্রস সেকশন) স্পষ্ট চিত্র তৈরি করে। সাধারণ এক্স-রে-তে অঙ্গগুলো একটির ওপর আরেকটি পড়ে ঝাপসা হয়, কিন্তু এখানে প্রতিটি স্তর আলাদাভাবে দেখা যায়।

    এ পদ্ধতিতে যেসব অঙ্গের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করা যায়:

    ১. মস্তিষ্ক: টিউমার, রক্তক্ষরণ বা আঘাতজনিত ক্ষতি।

    ২. বুক ও ফুসফুস: ফুসফুসের টিউমার বা সংক্রমণ।

    ৩. পেটের অঙ্গ: যকৃৎ, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, পিত্তথলি ইত্যাদির পাথর, টিউমার ও অন্যান্য সমস্যা।

    ৪. হাড় ও মেরুদণ্ড: ভাঙা বা ক্ষয়জনিত সমস্যা।

    এভাবে টমোগ্রাফি দিয়ে অস্ত্রোপচার ছাড়াই শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর অবস্থা বিস্তারিত দেখা যায়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের (ii) নং চিকিৎসা পদ্ধতিটি কেমোথেরাপি, যেখানে বিশেষ রাসায়নিক ঔষধ দিয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। এতে ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও কিছু সতর্কতা নিলে তা অনেকটা কমানো যায়।

    কেমোথেরাপির ঔষধ ক্যান্সার কোষের সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে যেসব কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়।

    ঝুঁকি ও প্রতিক্রিয়া:

    ১. চুল পড়ে যাওয়া, বমি ও বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য, মুখে ঘা।

    ২. অস্থিমজ্জার ক্ষতির কারণে রক্তস্বল্পতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি।

    ৩. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা।

    এড়ানোর কৌশল:

    ১. বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান: অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সঠিক মাত্রায় ঔষধ নেওয়া।

    ২. নিয়মিত পরীক্ষা: রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ।

    ৩. বমিনিরোধক ঔষধ: চিকিৎসকের পরামর্শে বমি ও বমি ভাব কমানোর ঔষধ।

    ৪. সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, ভিড় এড়ানো ও নিরাপদ খাবার খাওয়া।

    ৫. পুষ্টি ও বিশ্রাম: সুষম খাবার, প্রচুর পানি পান ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম।

    ৬. মানসিক সহায়তা: পরিবারের সহযোগিতা ও কাউন্সেলিং।

    সুতরাং, কেমোথেরাপি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ও সতর্কতায় এর ক্ষতি কমিয়ে রোগীর সুস্থতা বাড়ানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন