বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • ইংরেজ শাসন আমলে বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?
- খ)(2)
মুসলিম লীগ কেন গঠিত হয়?'
- গ)(3)
১নং চিত্রে প্রদর্শিত বিপ্লবী ব্যক্তির কার্যক্রম পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
২নং চিত্রে প্রদর্শিত বিপ্লবী নারী-ই কি বাংলার সমস্ত বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাস্কে কিংবদন্তি হয়ে আছেন? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৯৪০ সালে লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- খ)
ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ গঠিত হয়। বঙ্গভঙ্গ রদ হলে এবং কংগ্রেসের একতরফা ভূমিকা দেখে মুসলমানরা নিজস্ব সংগঠনের প্রয়োজন অনুভব করে। এর ফলে মুসলিম লীগের জন্ম হয়।
- গ)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে চট্টগ্রামের বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের কার্যক্রম (১নং চিত্রের ব্যক্তি সূর্য সেন ধরে নিয়ে) নিচে বর্ণনা করা হলো।
সূর্য সেন (১৮৯৪-১৯৩৪) কলেজজীবনেই বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন। স্নাতক ডিগ্রির পর তিনি উমাতারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং মাস্টারদা নামে পরিচিত হন। তিনি অম্বিকা চক্রবর্তী, অনুরূপ সেন ও নগেন সেনের সহায়তায় একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন।
চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার জন্য তিনি চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী গঠন করেন, যার পরবর্তী নাম হয় ‘চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি’। এ বাহিনী একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারি অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে। এরপর ‘স্বাধীন চিটাগাং সরকার’-এর ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জালালাবাদ পাহাড়ে ইংরেজ বাহিনীর সাথে চূড়ান্ত যুদ্ধে গোলাবারুদ ফুরিয়ে গেলে বিপ্লবীরা পিছু হটতে বাধ্য হন।
১৯৩৩ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৩৪ সালের ১২ই জানুয়ারি চরম নির্যাতনের পর ফাঁসিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাহিনীতে কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতার মতো নারী যোদ্ধাও ছিলেন। এভাবে তিনি বাঙালি তরুণদের মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সশস্ত্র সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
- ঘ)
হ্যাঁ, আমি মনে করি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারই বাংলার সমস্ত বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছেন।
সূর্য সেনের বিপ্লবী বাহিনীর নারী যোদ্ধাদের মধ্যে কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার উল্লেখযোগ্য। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, প্রীতিলতা বাংলার সমস্ত বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
১. মেধা ও ত্যাগ : প্রীতিলতা অসাধারণ মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ডিস্টিংশনসহ বি.এ. পাস করেন। এমন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছেড়ে তিনি দেশের জন্য বিপ্লবের পথ বেছে নেন।
২. নেতৃত্ব : যোগ্যতার জন্য তাঁকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়া হয়। এটি নারী বিপ্লবীর নেতৃত্বে একটি ঐতিহাসিক সশস্ত্র অভিযান।
৩. আত্মোৎসর্গ : সফল অভিযানের পর তিনি সঙ্গীদের নিরাপদে সরে যেতে সহায়তা করেন এবং ধরা পড়ার আগেই বিষপানে আত্মাহুতি দেন। এ আত্মত্যাগ তাঁকে অমর করেছে।
৪. ভিন্ন দৃষ্টিকোণ : তবে কল্পনা দত্ত, বীণা দাস প্রমুখ নারীর অবদানও কম নয়। বীণা দাস গভর্নর জ্যাকসনকে হত্যার প্রচেষ্টায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। তাই ‘একমাত্র’ বলা না গেলেও প্রীতিলতার ভূমিকা ছিল সর্বাগ্রে স্মরণীয়।
সুতরাং, নেতৃত্ব, মেধা ও আত্মত্যাগের কারণে চিত্র-২-এর বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা বাংলার সমস্ত বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও