বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
তমুদ্দুন মজলিস কী?
- খ)(2)
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয় লাভ করে কেন?
- গ)(3)
ভাষা আন্দোলনে ছক-১ এর ব্যক্তিবর্গের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"ছক-২ এ উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের অবদানই এদেশে সকল আন্দোলনের প্রেরণার উৎস”- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
তমুদ্দুন মজলিস হলো ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গঠিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- খ)
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের অপশাসন ও বাঙালির প্রতি বৈষম্যের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। বিরোধী দলগুলো যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ২১ দফা কর্মসূচি দেয়, যাতে ভাষা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল। শেরে বাংলা, মওলানা ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে এই ঐক্য মানুষের সমর্থন পায় এবং যুক্তফ্রন্ট জয়ী হয়।
- গ)
ছক-১-এ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান ও খাজা নাজিমুদ্দিনের নাম আছে। তাঁদের ভূমিকা ছিল বাংলা ভাষার দাবির বিরোধিতা।
১. জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এতে বাঙালির মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়।
২. প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নেন।
৩. মুখ্যমন্ত্রী ও পরে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৫২ সালে ঢাকায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে আন্দোলন আরও তীব্র হয়।এই বিরোধিতার প্রতিক্রিয়াতেই ভাষা আন্দোলন বেগবান হয়।
- ঘ)
ছক-২-এ বরকত, রফিক, জব্বার ও সালামের নাম আছে, যাঁরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদ হন। উক্তিটি যথার্থ।
১. তাঁদের আত্মত্যাগ বাঙালির মধ্যে জাতীয় চেতনা ও অধিকার আদায়ের সাহস জাগায়।
২. ভাষা আন্দোলন বাঙালির স্বাতন্ত্র্যবোধ তৈরি করে, যা পরবর্তী যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা ও গণ-অভ্যুত্থানের পথ প্রস্তুত করে।
৩. এই চেতনা থেকেই শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়।সুতরাং, ভাষা শহিদদের অবদানই এদেশের সকল আন্দোলনের প্রেরণার উৎস।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও