সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
আসামের চা বাগানে কুলি জোগাড় করা খুবই কঠিন। দলে দলে লোক কালাজ্বরে মরে। মজুর খাটতে সেখানে কোনো লোক যেতে চায় না। সেই সমস্যা নিরসনে এবং কমিশন পাওয়ার লোভে সুন্দরলাল সাঁওতাল পরগণার অশিক্ষিত, অসহায় ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের শিং বোঙ্গার দৈববাণীর ভয় দেখিয়ে কুলির কাজ করতে বাধ্য করায়।
- ক)(1)
সাত ছেলের বাপের নাম কী?
- খ)(2)
"দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা।" উক্তিটি কার? কোন প্রসঙ্গে বলেছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের দৈববাণীর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কীসের সাদৃশ্য রয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগণার মানুষগুলো যেন মহব্বত নগরের গ্রামবাসীর প্রতিনিধি।" মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাত ছেলের বাপের নাম দুদু মিয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা"—উক্তিটি মজিদের।
আওয়ালপুর থেকে আগত পীরের অলৌকিক প্রভাবের কথা যখন মহব্বতনগর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং মজিদের নিজের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন সে গভীর চিন্তায় নিমগ্ন হয়। মানুষের মন যে কত সহজে অন্ধবিশ্বাস ও নতুন চমকের দিকে ঝুঁকে পড়ে—মানুষের এই চঞ্চল মতিগতি ও জগতের অনিশ্চিত রূপের কথা ভেবে মজিদ এই উক্তিটি করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৈববাণীর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কর্তৃক তৈরি 'মোদাচ্ছের পীরের' স্বপ্নাদেশের সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠার জন্য একটি অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বলে প্রচার করে। সে দাবি করে, স্বপ্নে পীর তাকে আদেশ দিয়েছেন এই মাজারে এসে সেবা করার জন্য। গ্রামবাসী পীরের অসন্তোষ ও গজবের ভয়ে মজিদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তার অনুগত হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকেও সুন্দরলাল নামের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি চা বাগানে কুলি সংগ্রহ ও কমিশন পাওয়ার জন্য দেবতা 'শিং বোঙ্গা'র কাল্পনিক দৈববাণীর ভয় দেখায়। সাঁওতালদের ধর্মবিশ্বাস ও দেবভীতিকে কাজে লাগিয়ে সে তাদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কুলি খাটায়। সুতরাং, উপন্যাসের মজিদের পীরের স্বপ্নাদেশ এবং উদ্দীপকের শিং বোঙ্গার দৈববাণী—উভয়ই সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা ও স্বার্থ হাসিলের কৌশল, যে কারণে এ দুটির মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগণার মানুষগুলো যেন মহব্বত নগরের গ্রামবাসীর প্রতিনিধি"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
অশিক্ষা, কুসংস্কার এবং অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস সাধারণ মানুষকে কীভাবে চতুর শ্রেণির শোষণের শিকারে পরিণত করে, তা প্রশ্নোক্ত বক্তব্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ ছিল ধর্মভীরু, অশিক্ষিত এবং সহজ-সরল। মজিদ এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সেখানে মাজারের মিথ্যার জাল বিস্তার করে। গ্রামের মানুষ—যেমন খালেক ব্যাপারী থেকে শুরু করে সাধারণ চাষিরা—খোদার গজব ও মাজারের শাস্তির ভয়ে মজিদের কোনো অন্যায় বা অপকর্মের প্রতিবাদ করত না, বরং অন্ধভাবে তাকে মান্য করত।
উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগণার মানুষগুলোও চরম অশিক্ষিত, অসহায় ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কালাজ্বরের নিশ্চিত মৃত্যুর ভয় থাকা সত্ত্বেও সুন্দরলাল যখন তাদের শিং বোঙ্গার দৈববাণীর ভয় দেখায়, তখন তারা ঈশ্বরের ক্রোধের ভয়ে কুলি হতে বাধ্য হয়। তাদের নিজেদের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না; ভয়ের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করে।
অতএব দেখা যায়, কুসংস্কার ও ভীতি দ্বারা চালিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের সাঁওতালরা এবং মহব্বতনগর গ্রামের বাসিন্দারা একই সূত্রে গাঁথা। উভয় দলই সুবিধাবাদী শোষক শ্রেণির ধর্মীয় ও অলৌকিক ভীতি প্রদর্শনের শিকার। তাই উদ্দীপকের সাঁওতালরা মহব্বতনগরের শোষিত-অন্ধ গ্রামবাসীদেরই প্রকৃত প্রতিনিধি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও