যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
কালাম, বাবু ও আমিনুল তিন বন্ধুবাজারে ফল ক্রয়' করতে গেল। কালাম আপেল দেখে বলল, 'সকল আপেল হয় বিদেশি ফল' কমলা দেখে বাবু বলল, 'কিছু কর্মলা নয় দেশি।' তাদের কথা শুনে আমিনুল বলল, 'কোনো ফল নয় সস্তা।'
- ক)(1)
যুক্তি কাকে বলে?
- খ)(2)
সকল বাক্যকে যুক্তিবাক্য বলা যায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কালামের বক্তব্যটি কোন প্রকার যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করেছে? তার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বাবু ও আমিনুলের বক্তব্যে উল্লিখিত যুক্তিবাক্যের মধ্যে কোন ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়? আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক বা একাধিক প্রদত্ত অবধারণের ওপর ভিত্তি করে নতুন একটি অবধারণে উপনীত হওয়ার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে এবং সেই অনুমানের ভাষাগত রূপকে যুক্তি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সকল বাক্যকে যুক্তিবাক্য বলা যায় না, কারণ একটি সাধারণ বাক্য যুক্তিবাক্য হওয়ার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ নাও করতে পারে। যুক্তিবাক্য হতে হলে দুটি পদের মধ্যে একটি সম্পর্কের সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকতে হয় এবং এতে উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সংযোজক— এই তিনটি অংশ অপরিহার্য। এছাড়া যুক্তিবাক্যকে সবসময় বর্ণনামূলক এবং সত্য বা মিথ্যা হওয়ার উপযোগী হতে হয়। সাধারণ ভাষায় ব্যবহৃত প্রশ্নবোধক, ইচ্ছাসূচক, আদেশসূচক বা বিস্ময়সূচক বাক্যে কোনো কিছুর সত্যতা বা মিথ্যাত্ব ব্যক্ত হয় না এবং এদের পদ ও সংযোজকের সুস্পষ্ট রূপ থাকে না। তাই সব বাক্য যুক্তিবাক্য নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কালামের বক্তব্য 'সকল আপেল হয় বিদেশি ফল'— এটি একটি 'সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য' (A যুক্তিবাক্য)।
যে যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদ দ্বারা নির্দেশিত সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে বিধেয় পদটি স্বীকার করা হয়, তাকে সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য বলে। এর প্রতীকী রূপ হলো 'A'।
কালামের বক্তব্যের প্রকৃতি নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. পরিমাণের দিক থেকে এটি সার্বিক, কারণ এখানে 'আপেল' উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে ('সকল আপেল') বিবেচনা করা হয়েছে।
২. গুণের দিক থেকে এটি সদর্থক, কারণ এখানে উদ্দেশ্য সম্পর্কে 'বিদেশি ফল' গুণটি স্বীকার করা হয়েছে (সংযোজক 'হয়')।
৩. এর কাঠামো হলো: 'সকল' (পরিমাণক) + 'আপেল' (উদ্দেশ্য) + 'হয়' (সংযোজক) + 'বিদেশি ফল' (বিধেয়)। সুতরাং, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ A যুক্তিবাক্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাবুর বক্তব্য হলো 'কিছু কমলা নয় দেশি' এবং আমিনুলের বক্তব্য হলো 'কোনো ফল নয় সস্তা'। গুণ ও পরিমাণের যৌথ শ্রেণিকরণ অনুসারে বাবুর উক্তিটি একটি 'বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য' (O যুক্তিবাক্য) এবং আমিনুলের উক্তিটি একটি 'সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য' (E যুক্তিবাক্য)। এদের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পরিমাণের দিক থেকে পার্থক্য: আমিনুলের যুক্তিবাক্যটি সার্বিক, কারণ এখানে উদ্দেশ্য পদ 'ফল'-এর সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে বিধেয়কে অস্বীকার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে, বাবুর যুক্তিবাক্যটি বিশেষ, কারণ এখানে উদ্দেশ্য পদ 'কমলা'-র আংশিক ব্যক্ত্যর্থ ('কিছু কমলা') সম্পর্কে বিধেয়কে অস্বীকার করা হয়েছে।
২. প্রতীকের পার্থক্য: ঐতিহ্যবাহী যুক্তিবিদ্যায় আমিনুলের বাক্যটি সার্বিক নঞর্থক হওয়ায় এর প্রতীক 'E' এবং বাবুর বাক্যটি বিশেষ নঞর্থক হওয়ায় এর প্রতীক 'O'।
৩. পদের ব্যাপ্যতার পার্থক্য: E যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য এবং বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য হয়। ফলে আমিনুলের বাক্যে 'ফল' এবং 'সস্তা' উভয় পদই ব্যাপ্য। অপরদিকে, O যুক্তিবাক্যে কেবল বিধেয় পদ ব্যাপ্য কিন্তু উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য হয়। ফলে বাবুর বাক্যে 'কমলা' (উদ্দেশ্য) অব্যাপ্য হলেও 'দেশি' (বিধেয়) ব্যাপ্য।
৪. সম্পর্কের পরিসর: আমিনুলের বাক্যটিতে উদ্দেশ্য ও বিধেয় শ্রেণির মধ্যে সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ নির্দেশ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাবুর বাক্যে দুটি শ্রেণির মধ্যে আংশিক বিচ্ছেদ নির্দেশ করা হয়েছে।
অতএব, গুণগতভাবে উভয় বাক্যই নঞর্থক হলেও পরিমাণের দিক থেকে এদের মধ্যে সার্বিক ও বিশেষের মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও