বাংলা ১ম পত্র • মমতা-দি • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চামেলীর স্বামী রতনেরও চাকরি চলে যায়। সংসারের হাল ধরতে চামেন্টী শহরের বড়ো ব্যবসায়ী কৃষ্ণা মণ্ডলের কাপড়ের দোকানে বিপণন কর্মী হিসেবে কাজ নেয়। মাঝে মাঝে কৃষ্ণ মণ্ডলের দুই সন্তানকে দায়িত্বের সঙ্গে স্কুল থেকে আনা-নেওয়া করে। চামেলীর কাজকর্মে কৃষ্ণ মণ্ডল ভীষণ খুশি হন । চামেলীর মাসিক বেতন দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে দেন। এতে চামেলী ভীষণ খুশি হয় ।
- ক)(1)
মমতাদির দু-চোখ সজল হয়ে উঠল কেন ?
- খ)(2)
ভর্ৎসনা নয় আবেদন' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কৃষ্ণা মণ্ডল 'মমতাদি' গল্পের কোন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের চামেলী 'মমতাদি' গল্পের মমতাদি চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে কি? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মমতাদি তাঁর প্রতি মায়ের সম্মান ও সহৃদয় আচরণে অভিভূত হয়েছিলেন বলে (পনের টাকা মাইনে বারো টাকা আশা করার ফলে কৃতজ্ঞতায়) তাঁর দুচোখ সজল হয়ে উঠেছিল।
- খ)
রান্নাঘরে ভাঁড়ারের মিষ্টি লুকিয়ে খেতে গেলে মমতাদি কথকের হাত ধরে ফেলেন। তিনি ধমক বা তিরস্কার করেননি, বরং স্নেহভরে হেসে বলেছিলেন, বেশি খেলে অসুখ হবে, আর যেন না খায়। মার কাছে ধরা পড়লে বকুনি জুটত, কিন্তু মমতাদির কথায় ছিল কাতর অনুরোধ ও মমতা। তাই লেখক বলেছেন, 'ভর্ৎসনা নয় আবেদন'।
- গ)
উদ্দীপকের কৃষ্ণা মণ্ডল 'মমতাদি' গল্পের কথকের মা চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'মমতাদি' গল্পে কথকের মা একজন সহৃদয় ও মানবিক গৃহকর্ত্রী। রাঁধুনি মমতাকে তিনি 'বোসো বাছা' বলে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং আশাতীত পনের টাকা বেতন ঠিক করেন। স্বামীর চাকরি হয়েছে শুনে তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে কাজ ছেড়ে দিতে পারো, আমরা আটকাব না; তোমার ওপর মায়া বসেছে।
উদ্দীপকে কৃষ্ণা মণ্ডল চামেলীর কাজকর্মে খুশি হয়ে তার বেতন দ্বিগুণ করে দেন। এভাবে তিনিও কর্মচারীর প্রতি সহানুভূতি ও কদর দেখিয়েছেন। মায়ের মতো তিনিও গৃহকর্মী বা কর্মচারীকে মর্যাদা দেন এবং তার কাজের মূল্যায়ন করেন।
অতএব কৃষ্ণা মণ্ডল গল্পের কথকের মায়ের সঙ্গে মানবিক আচরণের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
উদ্দীপকের চামেলী 'মমতাদি' গল্পের মমতাদি চরিত্রকে আংশিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করে— সম্পূর্ণভাবে নয়।
'মমতাদি' গল্পের মমতাদি দরিদ্র সংসারের আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী। স্বামীর চাকরি না থাকায় সংসার চালাতে তিনি রাঁধুনির কাজ নেন। তিনি শুধু কর্মনিষ্ঠই নন, স্নেহ ও সম্মানপ্রত্যাশীও। নিচের যুক্তিগুলো তা স্পষ্ট করে।
১. অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতায় কর্মজীবনে প্রবেশ: মমতাদির স্বামী চার মাস বেকার ছিল, তাই তিনি 'পর্দা ঠেলে উপার্জনের জন্য বাইরে' আসেন। উদ্দীপকে অর্থনৈতিক মন্দায় রতনের চাকরি চলে যাওয়ায় চামেলী সংসারের হাল ধরতে কাজ নেয়। এ দিক থেকে দুজন এক।
২. কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ: মমতাদি নির্দেশ ছাড়াই নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে নিখুঁত কাজ করেন। চামেলীও কাজে দায়িত্ববান, মালিকের সন্তানদের স্কুল থেকে আনা-নেওয়া করে এবং মালিককে খুশি করে।
৩. আত্মমর্যাদা ও আবেগের জটিলতা: মমতাদি অপমানের চেয়ে সম্মানেই কেঁদে ফেলেন; ছেলেটির আদরে নিজের না-পাওয়া ভালোবাসা খোঁজেন; স্বামীর হাতে নির্যাতনের কষ্ট চেপে রাখেন। উদ্দীপকে চামেলীর এমন কোনো মানসিক টানাপোড়েন বা বঞ্চনার পরিচয় নেই। সে বেতন বৃদ্ধিতে খুশি— এটুকুই।
৪. পরিণতির পার্থক্য: গল্পে মমতাদির জীবনের বেদনা অমীমাংসিত; উদ্দীপকে চামেলী মালিকের সম্মান ও বেতন বৃদ্ধিতে সুখী।
সুতরাং কর্মনিষ্ঠা ও সংসারের প্রয়োজনে কাজে আসার দিক থেকে চামেলী মমতাদির আংশিক প্রতিনিধি; কিন্তু আত্মমর্যাদা, স্নেহকাতরতা ও বেদনার গভীরতা বিচারে সে মমতাদি চরিত্রের পূর্ণ প্রতিনিধি নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও