বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • ইংরেজ শাসন আমলে বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    INA-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    'আজাদ হিন্দ ফৌজ' গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে উক্ত ঘটনার প্রভাব অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    INA-এর পূর্ণরূপ Indian National Army (ভারতীয় জাতীয় বাহিনী), যা ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ নামে পরিচিত।

  2. খ)

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। প্রথমে রাসবিহারী বসু জাপানে বন্দি ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ে এর সূচনা করেন। পরে ১৯৪৩ সালে সুভাষচন্দ্র বসু সিঙ্গাপুরে এর নেতৃত্ব গ্রহণ করে বাহিনীকে পুনর্গঠন করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল জাপানের সহায়তায় ইংরেজদের তাড়িয়ে দেশ স্বাধীন করা।

  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি আজাদ হিন্দ ফৌজ (INA) ও তার নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর সশস্ত্র সংগ্রামের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধরা যায়।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কংগ্রেস রাজনীতিতে হতাশা দেখা দিলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪১ সালে গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। তিনি জার্মানি হয়ে ডুবোজাহাজে করে জাপানে আসেন। সেখানে রাসবিহারী বসুর সহযোগিতায় জাপানে বন্দী ভারতীয় সেনাদের নিয়ে গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব তিনি ১৯৪৩ সালে গ্রহণ করেন। ওই বছরই আন্দামান দ্বীপে আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেন।

    ১৯৪৪ সালে এই বাহিনী বার্মা হয়ে ভারতভূমিতে পদার্পণ করে এবং কোহিমা-ইম্ফলের রণাঙ্গনে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে। জাপানি বাহিনী পিছু হটলে আজাদ হিন্দ ফৌজকেও পিছু হটতে হয়।

    এভাবে ইংরেজ শাসন উচ্ছেদে সশস্ত্র লড়াইয়ের এই ঘটনাই চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

  4. ঘ)

    ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আজাদ হিন্দ ফৌজের (INA) প্রভাব অনস্বীকার্য। সামরিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও এর রাজনৈতিক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

    আজাদ হিন্দ ফৌজ ও সুভাষ বসু তখন ছিলেন ইংরেজদের কাছে আতঙ্ক। এই ঘটনার প্রভাব নিম্নরূপ।

    ১. আত্মবিশ্বাস ও সাহস সঞ্চার: নেতাজির অভিযান ভারতীয় স্বাধীনতাকামী জনগণের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সাহসের সঞ্চার করে।

    ২. সেনাদের আনুগত্যে ফাটল: ব্রিটিশ-ভারতের দেশীয় সেনাসদস্যদের মধ্যে আনুগত্যের ফাটল ধরায় এবং বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে প্রেরণা জোগায়।

    ৩. নৌ-বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট: আজাদ হিন্দ ফৌজের ব্যর্থতার পর ১৯৪৬ সালে বোম্বাইয়ে নৌ-বিদ্রোহ দেখা দেয়। এতে স্পষ্ট হয়, ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে ভারতীয়দের আয়ত্তে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

    ৪. ব্রিটিশ নীতিতে পরিবর্তন: এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার একের পর এক উদ্যোগ নেয়, যেমন ১৯৪৫ সালে ওয়াভেল পরিকল্পনা। যুদ্ধের পর অ্যাটলি সরকার বুঝতে পারে, সম্মানজনকভাবে খুব বেশি দিন ভারত শাসন সম্ভব নয়।

    ৫. অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টান্ত: এই বাহিনী ও সরকার ছিল অসাম্প্রদায়িক, যেখানে মুসলমান অফিসার ও সেনাসদস্যও ছিলেন।

    অবশ্য সরাসরি সামরিক সাফল্য না পাওয়ায় এই ঘটনা একাই ভারতের স্বাধীনতা আনেনি। তবে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ায় এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    সুতরাং ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রভাব অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন