পৌরনীতি ও নাগরিকতা • নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয় • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
১৩ বছরের শিউলী একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তারা ৮ ভাই-বোন। দারিদ্রতার কারণে তার পড়ালেখা করা সম্ভব হয়নি বিধায় তার পরিবার তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। বিয়ের পর দেখা গেল শিউলীর স্বামী বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত। এতে করে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ফলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ এনে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে শিউলীর উপর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা দেয়।
- ক)(1)
বয়স্ক শিক্ষা কী?
- খ)(2)
জনসংখ্যার পুনর্বণ্টন কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে শিউলীর পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে শিউলীর বিয়ের পর যে ধরনের সামাজিক সমস্যার শিকার হন তার প্রতিকারের উপায় বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বয়স্ক শিক্ষা হলো নিরক্ষর প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের অক্ষরজ্ঞান ও প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে স্বাক্ষর ও সচেতন করে তোলার ব্যবস্থা।
- খ)
জনসংখ্যার পুনর্বণ্টন হলো অধিক জনঘনত্বের এলাকা থেকে কম জনঘনত্বের এলাকায় জনগণকে স্থানান্তর বা বসতি স্থাপনে উৎসাহিত করা। এতে সারা দেশে জনসংখ্যার সুষম বণ্টন হয় এবং সম্পদের ওপর চাপ কমে। কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি করা যায়।
- গ)
উদ্দীপকে শিউলী একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, তারা আট ভাই-বোন। দারিদ্র্যের কারণে তার পড়ালেখা সম্ভব হয়নি। সুতরাং, তার পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ দারিদ্র্য।
১. বড় পরিবারে আয় কম ও সদস্য বেশি হওয়ায় সন্তানদের শিক্ষার খরচ জোগানো কঠিন হয়।
২. দরিদ্র পরিবার মেয়েদের শিক্ষার চেয়ে বিয়েকে অগ্রাধিকার দেয়।
৩. ফলে শিউলীর মতো শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।তাই দারিদ্র্যই তার শিক্ষা বন্ধের মূল কারণ।
- ঘ)
উদ্দীপকে শিউলী ১৩ বছর বয়সে বিয়ের শিকার হয়েছেন (বাল্যবিবাহ) এবং বিয়ের পর অভিযোগ এনে স্বামীর দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন (নারী নির্যাতন)। এসব সমস্যা প্রতিকারের উপায়:
১. আইনের প্রয়োগ: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
২. শিক্ষার প্রসার: মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ও উপবৃত্তি বাড়ানো, যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন হয়।
৩. দারিদ্র্য দূরীকরণ: কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে পরিবারের আয় বাড়ানো, যাতে দারিদ্র্যের কারণে মেয়েদের বিয়ে দিতে না হয়।
৪. সচেতনতা সৃষ্টি: গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং নির্যাতনের শিকার নারীকে আইনি সহায়তা দেওয়া।সুতরাং, আইন, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগেই এ ধরনের সামাজিক সমস্যার প্রতিকার সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও