বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
টোল' কী?
- খ)(2)
বর্ণবৈষম্য বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
চিত্র-১ এর স্থাপত্যটি কোন যুগে নির্মিত হয়েছে? স্থাপত্যটির বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তারে উদ্দীপকে উল্লিখিত স্থাপত্য দুইটি কি যথেষ্ট? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মধ্যযুগে সংস্কৃত ভাষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা দানের প্রতিষ্ঠানকে ‘টোল’ বলা হতো।
- খ)
বর্ণ বা গায়ের রং, জাতি বা বংশের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ করাকে বর্ণবৈষম্য বলা হয়।
প্রাচীন বাংলার ব্রাহ্মণ্য সমাজে জাতিভেদ প্রথা ব্যাপক ছিল। সমাজ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এই চার বর্ণে বিভক্ত ছিল এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট পেশা ছিল। ব্রাহ্মণরা সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা পেত, আর শূদ্ররা ছিল সবচেয়ে নিচু স্তরের।
- ঘ)
না, উদ্দীপকে উল্লিখিত স্থাপত্য দুইটিই বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তারের জন্য যথেষ্ট নয়; এগুলো মধ্যযুগের বিশাল স্থাপত্য ঐতিহ্যের কেবল দুটি নিদর্শন।
মধ্যযুগের সুলতান ও মুঘল শাসকরা নিজেদের শাসনকালকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলার নানা স্থানে মসজিদ, সমাধি, প্রাসাদ, দুর্গ, তোরণ ও মিনার নির্মাণ করেছিলেন। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, মুঘল যুগের এসব শিল্পকীর্তি বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল। এ প্রভাব কোনো একটি বা দুটি ইমারতের নয়, বরং সামগ্রিক স্থাপত্যধারার ফল।
১. সুলতানি আমলের বহুমুখী নিদর্শন: গৌড়ের আদিনা মসজিদ (১৩৬৯), বড় সোনা মসজিদ, ছোট সোনা মসজিদ, পাণ্ডুয়ার এক লাখি মসজিদ, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ (ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বঐতিহ্য), দাখিল দরওয়াজা ও ফিরোজ মিনার বাংলার স্থাপত্যের বৈচিত্র্য প্রকাশ করে।
২. মুঘল আমলের স্থাপত্য: ঢাকার বড় ও ছোট কাটরা, লালবাগের কেল্লা, পরিবিবির সমাধি, হোসেনী দালান, লালবাগের শাহি মসজিদ, সাতগম্বুজ মসজিদ ও হাজিগঞ্জ দুর্গ ছিল শিল্পকলার নতুন মাত্রা। এ কারণে মুঘল যুগকে স্থাপত্যের 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।
৩. নবাবি আমলের অবদান: জিনজিরা প্রাসাদ, বেগম বাজার মসজিদ এবং মুর্শিদাবাদের কাটরা-মসজিদ ও চেহেল সেতুন বাংলার স্থাপত্যধারাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
৪. সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভূমিকা: মসজিদ ও মাদ্রাসা শিক্ষা ও ধর্মচর্চার কেন্দ্র ছিল, কাটরা ছিল অতিথিশালা, দুর্গ ছিল প্রতিরক্ষার প্রতীক, সেতু ও ঈদগাহ সামাজিক জীবনকে সহজ করেছে। এভাবে স্থাপত্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জড়িয়ে ছিল।
সুতরাং শুধু উদ্দীপকের দুটি স্থাপত্য নয়, বরং সুলতানি, মুঘল ও নবাবি আমলের সামগ্রিক স্থাপত্যকীর্তিই বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও