ইসলাম • আদর্শ জীবনচরিত • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
ইসলাম প্রশ্ন
মাওলানা আবু তৈয়ব ইউপি চেয়ারম্যান হয়ে পরিবারের যাবতীয় কাজকর্ম নিজ হাতে সম্পাদন করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বিশৃঙ্খলা দমন করেন। এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে যথাযথভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। অপরদিকে তার বন্ধু জাকির সাহেব একরাতে পাশের বাড়ির কান্নার আওয়াজ শুনলেন। এবং সকালে ফজরের নামায শেষে পাশের বাড়ি গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারলেন যে, সেই বাড়ির এক বৃদ্ধা পেটের ব্যথায় ছটফট করছে। বৃদ্ধার বাড়িতে অন্য কোনো লোক নেই। তিনি তৎক্ষণাৎ বাড়ি এসে তার স্ত্রীকে নিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে যান এবং তার সেবা যত্ন করেন।
- ক)(1)
ইবনে সিনার পুরো নাম কী?
- খ)(2)
হযরত উমর (রা) কে ফারুক বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাওলানা আবু তৈয়বের কর্মকান্ডের সাথে কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উদ্ধৃত জাকির সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে কোন মহামানবের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে তা নিরূপণ পূর্বক তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ইবনে সিনার পুরো নাম আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সিনা।
- খ)
হযরত উমর (রা)-এর উপাধি 'ফারুক', যার অর্থ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে কাবায় নামাজ আদায় করেন। এতে মুসলমানরা শক্তি পায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। তাঁর ন্যায়বিচার ও সত্যের প্রতি আপসহীনতার কারণেও তাঁকে ফারুক বলা হয়।
- গ)
মাওলানা আবু তৈয়বের কর্মকাণ্ডের সাথে হযরত আবু বকর (রা)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
খলিফা হযরত আবু বকর (রা) সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি পরিবারের কাজ নিজ হাতে সম্পাদন করতেন। তাঁর খিলাফতকালে ভণ্ড নবি, যাকাত অস্বীকারকারী ও বিদ্রোহীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তা দমন করেন এবং মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকে চেয়ারম্যান আবু তৈয়বও সাধারণ জীবনযাপন করেন, দৃঢ়তার সাথে বিশৃঙ্খলা দমন করেন এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তাই তাঁর সাথে হযরত আবু বকর (রা)-এর মিল রয়েছে।
- ঘ)
জাকির সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। তিনি প্রতিবেশীর কান্না শুনে খোঁজ নিয়েছেন এবং অসহায় অসুস্থ বৃদ্ধার সেবায় এগিয়ে গেছেন।
মহানবি (স)-এর চরিত্রের বিশ্লেষণ:
১. প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব: রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, "সে মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খায় আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।" তিনি প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নিতেন।
২. রোগীর সেবা: তিনি রোগীদের দেখতে যেতেন এবং ইহুদি প্রতিবেশীর অসুস্থতায়ও তাকে দেখতে গিয়েছিলেন।
৩. দয়া ও সহমর্মিতা: তাঁকে আল্লাহ 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' (বিশ্বজগতের রহমত) হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর চরিত্র ছিল দয়া ও সেবার মূর্ত প্রতীক।
৪. নিজে এগিয়ে আসা: জাকির সাহেবের মতো তিনি অন্যের কষ্ট দেখে নিজে সাহায্যে এগিয়ে যেতেন, কারও নির্দেশের অপেক্ষা করতেন না।সুতরাং, জাকির সাহেবের আচরণ মহানবি (স)-এর আদর্শের অনুসরণ, যা আমাদের সবার অনুকরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও