বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বিধবা আম্বিয়া বেগম অবসরের সমস্ত টাকা ব্যয় করে দুই পুত্র ও এক কন্যাকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন'। ছেলেরা পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকে। তাদের সুখের কথা চিন্তা করে তিনি খুব আনন্দ পান, যদিও তাঁর দেখাশোনার মতো কেউ নেই। পুত্রদের সংবাদ দিলেও চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারে না। একসময় অসুস্থ হয়ে পড়েন আম্বিয়া বেগম। অবস্থা খারাপ হলে প্রতিবেশী দিনমজুর জবেদ আলির ছেলে আশিক তাকে দেখতে আসে। সবকথা শুনে আশিক তাঁর অনেক প্রশংসা করে।সে বলে 'আপনার মতো মা ঘরে ঘরে দরকার।'
- ক)(1)
'শিলেপেষা' অর্থ কী?
- খ)(2)
'সে আর এক আবর্জনা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আশিকের সাথে 'নিমগাছ' গল্পের যে চরিত্রের সাদৃশ্য আছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের আম্বিয়া বেগম ও 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ যেন একই সূত্রে গাঁথা।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
'শিলেপেষা' অর্থ শিলের ওপর নোড়া দিয়ে পিষে বাটা।
- খ)
'সে আর এক আবর্জনা' বলতে নিমগাছের চারপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনাকে বোঝানো হয়েছে। বাড়ির সবাই নিমগাছ থেকে নানাভাবে উপকার নেয়, কিন্তু গাছটির যত্ন কেউ নেয় না। অবহেলার ফলে তার গোড়ায় আবর্জনা জমতে থাকে। বক্তব্যটি দ্বারা উপকারী অথচ উপেক্ষিত নিমগাছের করুণ অবস্থা এবং সংসারে অবহেলিত গৃহবধূর প্রতীকী দুর্দশা ফুটে উঠেছে।
- গ)
উদ্দীপকের আশিকের সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পের সেই লোকটির সাদৃশ্য রয়েছে, যে নিমগাছের গুণ ও সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছিল।
বনফুলের 'নিমগাছ' গল্পে বাড়ির সবাই নিমগাছকে নিজ নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করে। কেউ পাতা ছেঁড়ে, কেউ ডাল ভাঙে, কেউ শিলে পেষে। কিন্তু গাছটির প্রতি কারও কোনো মমতা নেই। শুধু একজন লোক মুগ্ধ দৃষ্টিতে গাছটির সৌন্দর্যের প্রশংসা করে। সেই প্রশংসায় নিমগাছও তার সঙ্গে চলে যেতে চায়, কিন্তু মাটিতে গভীরভাবে শিকড় গাঁথা থাকায় যেতে পারে না। অর্থাৎ ওই লোকটিই একমাত্র ব্যক্তি, যে নিমগাছের মূল্য উপলব্ধি করেছিল।
উদ্দীপকে আম্বিয়া বেগম নিঃস্বার্থভাবে সন্তানদের মানুষ করেছেন, কিন্তু সন্তানেরা তাঁর খোঁজ রাখে না। এমন অবহেলিত অবস্থায় প্রতিবেশীর ছেলে আশিক তাঁর ত্যাগের প্রশংসা করে বলে, 'আপনার মতো মা ঘরে ঘরে দরকার।' আশিকের এই স্বীকৃতি ও প্রশংসা সেই লোকটির মতোই, যে নিমগাছের মূল্য বুঝেছিল।
সুতরাং উপেক্ষিতের গুণের স্বীকৃতিদানের দিক থেকে আশিক ও গল্পের প্রশংসাকারী লোকটির মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। আম্বিয়া বেগম ও 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ উভয়েই নীরব ত্যাগ ও সেবার প্রতীক।
১. নিঃস্বার্থ সেবা: আম্বিয়া বেগম নিজের সব অর্থ ব্যয় করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। লক্ষ্মীবউও সংসারের সবার সেবা করেন, নিজের কথা ভাবেন না।
২. অবহেলা: আম্বিয়ার ছেলেরা ব্যস্ততার অজুহাতে মায়ের খোঁজ নেয় না। নিমগাছ সবার উপকার করেও যেমন কৃতজ্ঞতা পায় না, লক্ষ্মীবউও পরিবারের কাছ থেকে তাঁর প্রাপ্য মূল্য পান না।
৩. নীরব সহনশীলতা: দুজনই অভিযোগ না করে দায়িত্ব পালন করে যান।সুতরাং, ত্যাগ ও অবহেলার দিক থেকে আম্বিয়া বেগম ও লক্ষ্মীবউ একই সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও