যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃষ্টান্ত-১:লাভলী ১৯৭৭ সালের ১০ জুন ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। দৃষ্টান্ত-২:আজিজ সাহেব সুন্দর ও পরিপাটি পোশাক পরিধান করেন। দৃষ্টান্ত-৩: সকল বিড়াল হয় 'মরণশীল'।
- ক)(1)
উপজাতি কী?
- খ)(2)
জাতি উপজাতি থেকে পৃথক কেন?
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত-৩ এ 'মরণশীল' কোন প্রকার বিধেয়ককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এ নির্দেশিত বিধেয়কের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি শ্রেণিসূচক পদের মধ্যে যে পদটির ব্যক্ত্যর্থ কম এবং যা বৃহত্তর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাকে উপজাতি (Species) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি ও উপজাতির মধ্যে ব্যক্ত্যর্থের পরিধি ও সম্পর্কের দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। দুটি পদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে পদের ব্যক্ত্যর্থ বা পরিধি বেশি তাকে জাতি বলে এবং যার ব্যক্ত্যর্থ তুলনামূলকভাবে কম তাকে উপজাতি বলে। একটি জাতি তার অন্তর্ভুক্ত একাধিক উপজাতি নিয়ে গঠিত হয়; কিন্তু একটি উপজাতি জাতির একটি অংশমাত্র। তাই ব্যাপকতা ও অন্তর্ভুক্তির বৈশিষ্ট্যের কারণে জাতি উপজাতি থেকে পৃথক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-৩ এ 'মরণশীল' পদটি বিধেয়কের 'উপলক্ষণ' (Proprium)-কে নির্দেশ করে।
যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের মূল জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত বা নিঃসৃত ফলস্বরূপ প্রকাশ পায়, তাকে উপলক্ষণ বলে।
উদ্দীপকের ৩ নম্বর দৃষ্টান্তে বলা হয়েছে 'সকল বিড়াল হয় মরণশীল'। এখানে উদ্দেশ্য পদ হলো 'বিড়াল' এবং বিধেয় পদ হলো 'মরণশীল'। বিড়ালের মূল জাত্যর্থ হলো জীববৃত্তি ও বিশেষ পশুত্ব। এই জীববৃত্তি নামক মূল জাত্যর্থ থেকে 'মরণশীলতা' গুণটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। যেহেতু মরণশীলতা বিড়ালের ব্যক্ত্যর্থের সকল সদস্যে বর্তমান এবং তা জাত্যর্থ থেকে অনুমিত হয়েছে অথচ মূল জাত্যর্থের প্রত্যক্ষ অংশ নয়, তাই এখানে 'মরণশীল' বিধেয়কটি উপলক্ষণকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-১ এবং দৃষ্টান্ত-২ এ যথাক্রমে অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এবং বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে।
যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থও নয় বা জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও নয়, বরং উদ্দেশ্য পদের সাথে আকস্মিকভাবে যুক্ত থাকে, তাকে অবান্তর লক্ষণ (Accident) বলে।
দৃষ্টান্ত-১ এ 'লাভলী ১৯৭৭ সালের ১০ জুন ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন'—এখানে লাভলীর জন্মতারিখ ও জন্মস্থান নির্দেশ করা হয়েছে। এটি একটি ব্যক্তিসূচক অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (Inseparable accident)। কারণ কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট জন্মস্থান বা জন্মতারিখ কখনোই সেই ব্যক্তি থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, দৃষ্টান্ত-২ এ 'আজিজ সাহেব সুন্দর ও পরিপাটি পোশাক পরিধান করেন'—এখানে নির্দেশিত গুণটি বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (Separable accident)। কারণ সুন্দর ও পরিপাটি পোশাক পরিধান করা আজিজ সাহেবের স্থায়ী কোনো গুণ নয়; তিনি যেকোনো সময় ভিন্ন বা সাধারণ পোশাক পরিধান করতে পারেন, যা পরিবর্তনশীল ও ব্যক্তি থেকে বিচ্ছেদযোগ্য।
সুতরাং, দৃষ্টান্ত-১ এ নির্দেশিত বিধেয়কটি ব্যক্তি থেকে চিরতরে অবিচ্ছেদ্য (অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ), পক্ষান্তরে দৃষ্টান্ত-২ এ নির্দেশিত বিধেয়কটি পরিবর্তনশীল ও ব্যক্তি থেকে সহজেই বিচ্ছেদ্য (বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ)। এটিই তাদের মধ্যকার মূল পার্থক্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও