সাধারণ জ্ঞান • Literature, arts and culture • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন
1.
বই পড়ার আনন্দ
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বই পড়ার আনন্দ
ভূমিকা:
জ্ঞান অর্জন, মানবচেতনার বিকাশ এবং আত্মিক প্রশান্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। বই হলো মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু, যা স্থান-কালের সীমানা ছাড়িয়ে পাঠককে নিয়ে যায় অন্য এক ভুবনে। সৈয়দ মুজতবা আলী যথার্থই বলেছেন, "বই কিনে কেউ কোনোদিন দেউলে হয় না।" বই পড়ার আনন্দের সঙ্গে পার্থিব কোনো কিছুরই তুলনা চলে না।
বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব:
বই মানুষের মনের সংকীর্ণতা দূর করে এবং চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে। জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার পরিধি সীমিত, কিন্তু বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ দেশ-বিদেশের বিচিত্র সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'বই পড়া' প্রবন্ধে বলেছেন, "বই পড়ার অভ্যাসটা বাড়ানো দরকার, কারণ মনের দিক থেকে সুস্থ ও সবল থাকার জন্য সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই।"
বই পড়ার বিচিত্র আনন্দ:
বই পড়ার আনন্দ নিঃস্বার্থ ও অবারিত। গল্প, উপন্যাস বা কবিতার বইয়ের পাতায় ডুব দিয়ে মানুষ দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি ও দুঃখ-বেদনা ভুলে যায়। কল্পনার জগতে পাঠক কখনো রাজপ্রাসাদের রোমাঞ্চ অনুভব করে, কখনো বা মহাকাশের রহস্যে হারিয়ে যায়। ইতিহাস ও বিজ্ঞানের বই পাঠককে দেয় সত্য আবিষ্কারের রোমাঞ্চকর অনুভূতি। এই নির্মল আনন্দ মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে।
বই পড়ার অভ্যাসের অবনতি ও করণীয়:
বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতি ব্যবহারের ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস হ্রাস পাচ্ছে। তবে স্ক্রিনের আলো সাময়িক চিত্তবিনোদন দিলেও বইয়ের পৃষ্ঠার স্পর্শ ও তার গভীর আনন্দ দিতে পারে না। তাই প্রতিটি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাঠাগার আন্দোলন গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের কাছে বই সহজলভ্য করতে হবে।
উপসংহার:
বই মানুষের নিঃসঙ্গ জীবনের পরম সঙ্গী। একটি ভালো বই হৃদয়ের অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে দেয়। বই পড়ার অভ্যাস যত বাড়বে, সমাজ তত বেশি সংবেদনশীল ও সংস্কৃতিবান হয়ে উঠবে। তাই আমাদের সবার উচিত প্রতিদিন কিছুটা সময় বই পড়ার আনন্দে নিজেকে নিবেদিত করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও