বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
পুরোপলীয় যুগ কাকে বলে?
- খ)(2)
ইতিহাসে 'হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির' পরিচয় দাও।
- গ)(3)
চিত্র-১ এ নির্দেশিত সভ্যতাটির স্থাপত্য শৈলীর বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
মিশরীয় সভ্যতা ছিল বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে চিত্র-২ এর অগ্রদূত' বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
প্রস্তর যুগের প্রথম ও দীর্ঘতম পর্যায়কে পুরোপলীয় যুগ বলা হয়, যখন মানুষ অমসৃণ ও অমার্জিত পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করে শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করত।
- খ)
গ্রিক সংস্কৃতি ও প্রাচ্যের সংস্কৃতির মিলনে যে নতুন সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, ইতিহাসে তাকে হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি বলা হয়। আলেকজান্ডারের বিভিন্ন অঞ্চল জয়ের পর মিশর, পারস্য ও ভারতের কিছু অংশে গ্রিক সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যায়। এর ফলেই এই মিশ্র সংস্কৃতির জন্ম হয়।
- গ)
চিত্র-১ এ নির্দেশিত সভ্যতাটি সিন্ধু সভ্যতা, যার স্থাপত্য শৈলী ছিল উন্নত ও সুপরিকল্পিত।
সিন্ধু সভ্যতার মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা খননে পাওয়া নিদর্শন থেকে তাদের স্থাপত্যের পরিচয় মেলে। নগরগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়া হয়েছিল। বাড়িঘর তৈরিতে পোড়া ইট ব্যবহৃত হতো। সড়ক ছিল প্রশস্ত ও সুবিন্যস্ত। পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা নর্দমার ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়া কূপ, শস্যাগার ও বৃহৎ স্নানাগারের মতো জনকল্যাণমূলক স্থাপনার প্রমাণ পাওয়া যায়।
চিত্র-১ এ পোড়া ইটে তৈরি সুনির্মিত স্নানাগার-সদৃশ কাঠামো দেখা যায়, যা সিন্ধু সভ্যতার এই স্থাপত্য-দক্ষতারই নিদর্শন। এ থেকে বোঝা যায়, তারা সৌন্দর্য ও ব্যবহারিক প্রয়োজন, দুটিকেই গুরুত্ব দিত।
সুতরাং সুপরিকল্পিত নগর ও টেকসই ইটের স্থাপনাই সিন্ধু সভ্যতার স্থাপত্য শৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- ঘ)
মিশরীয় সভ্যতা ছিল বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে চিত্র-২ অর্থাৎ লিখন পদ্ধতির (হায়ারোগ্লিফিক লিপির) অগ্রদূত, এ মন্তব্য যথার্থ।
চিত্র-২ এ চিত্রলিপির মতো বর্ণচিহ্ন দেখা যায়, যার সূচনা প্রাচীন মিশরীয়দের হাতে।
১. চিত্রলিপির উদ্ভাবন: মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান আবিষ্কার ছিল লিপি। প্রথমে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত। এই চিত্রলিপির নাম 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।
২. বর্ণমালা: পাঁচ হাজার বছর আগে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
৩. কাগজের আবিষ্কার: নলখাগড়া জাতীয় গাছের কাণ্ড থেকে তৈরি 'প্যাপিরাস' কাগজে তারা লিখত, যা থেকে ইংরেজি 'পেপার' শব্দের উৎপত্তি।
৪. অন্যান্য অবদান: জ্যামিতি ও পাটিগণিত, সৌর পঞ্জিকা (৩৬৫ দিনে বছর), সূর্যঘড়ি, ছায়াঘড়ি, পানিঘড়ি এবং ভাস্কর্য ও পিরামিড স্থাপত্য মিশরীয়দের বিশ্বসভ্যতায় অবদান।
৫. রসেটা স্টোন: গ্রিক ও হায়ারোগ্লিফিক লেখাসহ রসেটা স্টোন থেকে প্রাচীন মিশরের ইতিহাস জানা সম্ভব হয়েছে।
সুতরাং লিখন পদ্ধতিসহ নানা ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকার জন্য মিশরীয় সভ্যতা বিশ্বসভ্যতার অগ্রদূত। মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও