বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রায় ২৬ বছর একটানা চেয়ারম্যানী করার পর মৃত্যুবরণ করেন। তার ছেলে শাহ আলম উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান হলেও যোগ্যতার পরিচয় দিতে না পারায় পরবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হয়।বর্তমানে মধু সংগ্রহ কষ্টকর ও অলাভজনক। তাই সুন্দরবনের গরীব ও নিরীহ লোকজন চ্যানেল আইতে শাইখ সিরাজের কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে বাক্স পদ্ধতিতে মৌমাছি চাষে উদ্বুদ্ধ হয়। অধিক লাভজনক হওয়ায় অনেকেই মৌমাছি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
- ক)(1)
ফরায়েজি আন্দোলন কী?
- খ)(2)
সেনদের 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলা হতো কেন?
- গ)(3)
অনুচ্ছেদ-১-এ বর্ণিত বিষয়টি প্রাচীন রাংলার যে দিকটি নির্দেশ করছে তার বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
সুন্দরবনের গরীব ও নিরীহ লোকজনের পেশা পরিবর্তনের বিষয়টি প্রাচীন বাংলার কোনো এক রাজবংশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ- বিশ্লেষণ করে দেখাও যে, উক্তিটি যথার্থ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ফরায়েজি আন্দোলন হলো উনিশ শতকে হাজী শরীয়তুল্লাহ্ কর্তৃক প্রবর্তিত ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন, যার লক্ষ্য ছিল ইসলামের ফরজ বিধান পালন ও শিরক-বিদআত দূর করা।
- খ)
সেন বংশের রাজারা মূলত কর্ণাটক থেকে আগত ব্রাহ্মণ বংশজাত ছিলেন, কিন্তু তাঁরা সামরিক বৃত্তি অর্থাৎ ক্ষত্রিয়ের কাজ গ্রহণ করেছিলেন।
একই সঙ্গে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় উভয় পরিচয় ধারণ করায় তাঁদের 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলা হতো।
- গ)
অনুচ্ছেদ-১-এ বর্ণিত বিষয়টি প্রাচীন বাংলার মাৎস্যন্যায়, অর্থাৎ রাজনৈতিক অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার দিকটি নির্দেশ করছে।
প্রাচীন বাংলায় গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক শক্তিশালী শাসক ছিলেন, কিন্তু তাঁর কোনো স্থায়ী শক্তিশালী উত্তরাধিকারী ছিল না। ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দের কিছু আগে তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না। ফলে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই রাজা হওয়ার কল্পনায় পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়। ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসনে এ সময়কে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়েছে, অর্থাৎ পুকুরে বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে ফেলার মতো অবস্থা।
উদ্দীপকে চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রায় ২৬ বছর শাসন করার পর মারা যান। তাঁর ছেলে শাহ আলম উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান হলেও যোগ্যতার পরিচয় দিতে না পারায় পরের নির্বাচনে হেরে যায়। অর্থাৎ শক্তিশালী শাসকের পর যোগ্য উত্তরাধিকারীর অভাব দেখা দেয়। শশাঙ্কের পর অযোগ্য নেতৃত্বের শূন্যতার সঙ্গে এর মিল রয়েছে।
- ঘ)
সুন্দরবনের গরিব ও নিরীহ লোকজনের পেশা পরিবর্তনের বিষয়টি প্রাচীন বাংলার সেন রাজবংশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। উক্তিটি যথার্থ।
পাঠ্যবই অনুযায়ী সেন রাজবংশের আদি নিবাস ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক। সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেন পাল রাজা রামপালের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০) পাল রাজা মদনপালকে পরাজিত করে সেন শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, বল্লাল সেন ও লক্ষণ সেন সেই ধারা এগিয়ে নেন। এঁরা মূলত ব্রাহ্মণ বংশোদ্ভূত হয়েও সামরিক ও শাসনের পেশায় এসেছিলেন, তাই 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' নামে পরিচিত।
১. প্রচলিত পেশা থেকে নতুন পেশায় যাওয়া: উদ্দীপকে সুন্দরবনের লোকজন মধু সংগ্রহের কষ্টকর ও অলাভজনক প্রথাগত পেশা ছেড়ে বাক্স পদ্ধতিতে মৌমাছি চাষের মতো নতুন পেশায় গেছে। সেনরাও আদি ব্রাহ্মণ পেশা থেকে সরে ক্ষত্রিয় পেশা গ্রহণ করেছিলেন।
২. নতুন পেশার সাফল্য: মৌমাছি চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় অনেকে আগ্রহী হয়েছে। সেনরাও সামন্ত থেকে নিজ বাহুবলে শাসক হয়ে রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে সাফল্য পেয়েছিলেন।
৩. পরিবর্তনের প্রেরণা ও প্রয়োজন: সুন্দরবনের মানুষ নতুন পদ্ধতির কথা টেলিভিশনের অনুষ্ঠান থেকে জেনে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। সেনরা পালদের দুর্বলতার সুযোগে ক্ষমতার নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়েছিলেন।
৪. সীমাবদ্ধতা: সুন্দরবনের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে পেশা বদলেছে, আর সেনরা যুদ্ধ ও ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে। তবে পেশা পরিবর্তনের মূল দিকে মিল রয়েছে।
সুতরাং, উদ্দীপকের পেশা পরিবর্তন সেন বংশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও