অর্থনীতি ২য় পত্র • মুদ্রাস্ফীতি • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কোনো দেশের দামস্তর ২০২৩ সালে ছিল ২১০ টাকা এবং ২০২৪ সালে ছিল ২৩৪ টাকা। দামস্তরের এ ধরনের বৃদ্ধি উৎপাদনকারী, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রভাবিত করে।
- ক)(1)
সূচক সংখ্যা কী?
- খ)(2)
মজুরি বৃদ্ধি কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্য থেকে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সংখ্যা বা পরিমাপের সাহায্যে কোনো নির্দিষ্ট ভিত্তিবছরের তুলনায় চলতি বছরের সামগ্রিক দামস্তর বা অর্থনৈতিক চলকের আপেক্ষিক পরিবর্তন প্রকাশ করা হয়, তাকে সূচক সংখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পেলে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে উৎপাদনকারী তার মুনাফা বজায় রাখতে পণ্যের বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে দেয়। এভাবে মজুরি বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক দামস্তর বৃদ্ধি পেয়ে যে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে তাকে ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-push inflation) বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী:
ভিত্তি বছর বা পূর্ববর্তী বছর (২০২৩)-এর দামস্তর, টাকা
চলতি বছর (২০২৪)-এর দামস্তর, টাকামুদ্রাস্ফীতির হারের সূত্রটি হলো:
মান বসিয়ে পাই,
(প্রায়)অতএব, উদ্দীপকের তথ্য থেকে প্রাপ্ত মুদ্রাস্ফীতির হার ১১.৪৩%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে। নিচে উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রেণিগুলোর ওপর এর প্রভাব আলোচনা করা হলো:
১. উৎপাদনকারী: মুদ্রাস্ফীতির সময় উৎপাদিত পণ্যের মূল্য উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের মুনাফা বৃদ্ধি পায় এবং তারা লাভবান হয়।
২. শ্রমজীবী ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ: মুদ্রাস্ফীতির ফলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও শ্রমজীবী ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের আর্থিক মজুরি বা আয় একই হারে বা দ্রুত বাড়ে না। ফলে তাদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তারা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩. কৃষিজীবী: কৃষিজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেলে কৃষকরা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও উৎপাদনের উপকরণের (যেমন: সার, বীজ, কীটনাশক) মূল্য বৃদ্ধির ফলে তাদের উৎপাদন খরচও বাড়ে। তবে সামগ্রিকভাবে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ভালো দাম পেলে তারা কিছুটা সুবিধা পায়, যদিও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা: ঋণদাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঋণগ্রহীতা লাভবান হয়। কারণ মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য কমে যায়। ফলে ঋণগ্রহীতা যে মূল্যের অর্থ ঋণ নিয়েছিল, পরিশোধ করার সময় সমপরিমাণ অর্থের প্রকৃত মূল্য অনেক কম থাকে।
সুতরাং দেখা যায়, মুদ্রাস্ফীতি ধনী ও উৎপাদনকারীদের অনুকূলে কাজ করলেও শ্রমজীবী ও নির্দিষ্ট আয়ের সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে বিপদে ফেলে সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও