জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : চলন ও অঙ্গচালনা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    লিভার কী?

    (1)
  2. খ)

    জটিল হাড়ভাঙা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'P' এর কোষগুলো বিন্যাস্ত হয়ে যে তন্ত্র গঠন করে তার বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Q' এর গঠন ও কাজ অন্য দুই প্রকার পেশির সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লিভার হলো একটি দৃঢ় দণ্ড যা একটি নির্দিষ্ট স্থির বিন্দু বা ফালক্রামকে কেন্দ্র করে স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারে এবং যার সাহায্যে কোনো বাধা অতিক্রম করা যায় বা কাজ সম্পন্ন করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে ধরনের অস্থিভঙ্গে অস্থি ভেঙে গিয়ে ত্বক ভেদ করে বাইরে বের হয়ে আসে অথবা ভাঙা অস্থির অগ্রভাগ আশেপাশের পেশি, রক্তনালি বা স্নায়ুকে মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করে, তাকে জটিল বা উন্মুক্ত হাড়ভাঙা (compound/complicated fracture) বলে। এ ধরনের হাড়ভাঙায় বাহ্যিক রক্তক্ষরণ ঘটে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত 'P' হলো একটি দীর্ঘ অস্থি। নিরেট অস্থির গাঠনিক একক হিসেবে এর কোষগুলো বিশেষ বিন্যাসের মাধ্যমে যে তন্ত্র গঠন করে তাকে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র (Haversian system বা Osteon) বলে।

    হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের বিভিন্ন অংশের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
    ১. হ্যাভারসিয়ান নালি (Haversian canal): তন্ত্রের কেন্দ্রে লম্বালম্বিভাবে অবস্থিত একটি সরু নালি। এর মধ্য দিয়ে ধমনি, শিরা, লসিকানালি ও স্নায়ুতন্তু গমন করে। দুটি হ্যাভারসিয়ান নালি আড়াআড়ি ফকম্যানের নালি দ্বারা যুক্ত থাকে।
    ২. ল্যামেলি (Lamellae): হ্যাভারসিয়ান নালিকে কেন্দ্র করে সমকেন্দ্রী বৃত্তাকারে স্তরে স্তরে সাজানো কঠিন মাত্রিকাকে ল্যামেলি বলে। একটি তন্ত্রে সাধারণত ৫ থেকে ২০টি ল্যামেলি থাকে।
    ৩. ল্যাকুনি (Lacunae): ল্যামেলির ফাঁকে ফাঁকে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গহ্বরকে ল্যাকুনি বলে। প্রতিটি ল্যাকুনার অভ্যন্তরে একটি করে অস্থির প্রধান কোষ বা অস্টিওসাইট থাকে।
    ৪. ক্যানালিকুলি (Canaliculi): প্রতিটি ল্যাকুনা থেকে বহু সূক্ষ্ম ও শাখান্বিত নালিকা চারদিকে জালিকাকারে বিস্তৃত থাকে, এদের ক্যানালিকুলি বলে। এরা পার্শ্ববর্তী ল্যাকুনা ও কেন্দ্রীয় হ্যাভারসিয়ান নালির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে পুষ্টি ও বর্জ্য পদার্থ পরিবহনে সাহায্য করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'Q' চিহ্নিত চিত্রটি হলো হৃৎপেশি (কার্ডিয়াক পেশি)। মানবদেহের অন্য দুই প্রকার পেশি হলো ঐচ্ছিক পেশি (কঙ্কাল পেশি) এবং অনৈচ্ছিক পেশি (মসৃণ পেশি)। নিচে এদের গঠন ও কাজের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গঠনের তুলনা:

    • কোষের আকৃতি: হৃৎপেশির কোষগুলো নলাকার ও শাখান্বিত। ঐচ্ছিক পেশির কোষগুলো নলাকার হলেও শাখাহীন। অনৈচ্ছিক পেশির কোষগুলো মাকু আকৃতির এবং শাখাহীন।
    • নিউক্লিয়াস: হৃৎপেশিতে সাধারণত একটি (কখনো দুটি) কেন্দ্রস্থ নিউক্লিয়াস থাকে। ঐচ্ছিক পেশিকোষ বহু-নিউক্লিয়াসযুক্ত (সিনসাইসিয়াল) এবং নিউক্লিয়াসগুলো পরিধির দিকে থাকে। অনৈচ্ছিক পেশিকোষ একক কেন্দ্রস্থ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট।
    • ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক: হৃৎপেশির প্রধান অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক থাকে, যা ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক পেশিতে অনুপস্থিত।
    • ডোরাকাটা দাগ (রেখাঙ্কন): হৃৎপেশি ও ঐচ্ছিক পেশিতে স্পষ্ট আড়াআড়ি ডোরাকাটা দাগ বা রেখাঙ্কন বিদ্যমান। কিন্তু অনৈচ্ছিক পেশিতে কোনো ডোরাকাটা দাগ থাকে না।

    ২. কাজের তুলনা:

    • নিয়ন্ত্রণের প্রকৃতি: হৃৎপেশি ও অনৈচ্ছিক পেশি উভয়ই প্রাণীর ইচ্ছার অধীন নয়, অর্থাৎ অনৈচ্ছিক প্রকৃতির। অপরদিকে ঐচ্ছিক পেশি প্রাণীর ইচ্ছা অনুযায়ী সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
    • ক্লান্তি: হৃৎপেশি সারাজীবন ছন্দোবদ্ধভাবে ও ক্লান্তিহীনভাবে স্পন্দিত হয়, এরা কখনো ক্লান্ত হয় না। ঐচ্ছিক পেশি দ্রুত সংকুচিত হতে পারে বিধায় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনৈচ্ছিক পেশি ধীরগতিতে দীর্ঘক্ষণ কাজ করে এবং সহজে ক্লান্ত হয় না।
    • অবস্থান ও কার্যকারিতা: হৃৎপেশি শুধুমাত্র হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে অবস্থান করে রক্ত সংবহন বজায় রাখে। ঐচ্ছিক পেশি কঙ্কালের সাথে যুক্ত থেকে দেহের চলন ও অঙ্গ সঞ্চালনে ভূমিকা রাখে। অনৈচ্ছিক পেশি রক্তনালি, পাকস্থলী ও অন্ত্র ইত্যাদির প্রাচীরে অবস্থান করে পেরিস্টালসিস ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের স্বয়ংক্রিয় কার্য সম্পাদন করে।

    অতএব, গঠনগতভাবে হৃৎপেশি ঐচ্ছিক পেশির মতো রেখাঙ্কিত হলেও কার্যগত দিক থেকে এটি অনৈচ্ছিক পেশির মতো স্বয়ংক্রিয় এবং এর অবিরাম ছন্দোবদ্ধ কার্যক্ষমতা একে অন্য দুই পেশি থেকে অনন্য করে তুলেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন