বিজ্ঞান • দুর্যোগের সাথে বসবাস • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

বিজ্ঞান প্রশ্ন

  1. ক)

    কার্বন দূষণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অধিক জনসংখ্যা পরিবেশগত প্রধান সমস্যা কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-'P' কীভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-'P' কীভাবে চিত্র-'Q' এর সাথে সম্পর্কিত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে কার্বন দূষণ বলে।

  2. খ)

    অধিক জনসংখ্যার জন্য বেশি খাদ্য, বাসস্থান, জ্বালানি ও শিল্পজাত পণ্য দরকার হয়। এজন্য বন কেটে ফেলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি বেশি পোড়ানো হয়, ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়ে। এতে বৈশ্বিক উষ্ণতা, বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ ঘটে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ বাড়ে। তাই অধিক জনসংখ্যা পরিবেশের প্রধান সমস্যা।

  3. গ)

    চিত্র-P গ্রিন হাউস প্রভাবের চিত্র, যা বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ায় এবং এভাবেই বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টি করে।

    পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, সিএফসি, ওজোন ও জলীয় বাষ্প থাকে, যাদের বলা হয় গ্রিন হাউস গ্যাস। সূর্য থেকে আসা আলো ও তাপ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছে একে উত্তপ্ত করে। ভূপৃষ্ঠ আবার তাপ বিকিরণ করে মহাশূন্যে ফেরত পাঠাতে চায়। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের গ্রিন হাউস গ্যাসগুলো এই বিকিরিত তাপের একটি বড় অংশ আটকে দেয়, ফলে তাপ বাইরে যেতে পারে না। কাচের ঘরের মতো এই প্রভাবকেই গ্রিন হাউস প্রভাব বলে।

    যানবাহন, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ধোঁয়া, রেফ্রিজারেটর ও শীতাতপ যন্ত্রের গ্যাস এবং বনভূমি ধ্বংসের কারণে এই গ্যাসগুলোর পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। গাছ কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণও কমছে। গ্যাস বাড়লে আটকে থাকা তাপও বাড়ে, তাই বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এটিই বৈশ্বিক উষ্ণতা।

    অতএব, গ্রিন হাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে বর্ধিত গ্রিন হাউস প্রভাবই বৈশ্বিক উষ্ণতার মূল কারণ।

  4. ঘ)

    চিত্র-P গ্রিন হাউস প্রভাব এবং চিত্র-Q জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিবেশ। এখানে P হলো কারণ এবং Q হলো তার পরিণতি, তাই দুটি চিত্র কার্যকারণ সম্পর্কে যুক্ত।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী গ্রিন হাউস গ্যাস বাড়লে বৈশ্বিক উষ্ণতা হয়, যা জলবায়ুজনিত পরিবর্তন ঘটায়। এই পরিবর্তনের প্রভাব বহুমুখী।

    ১. তাপমাত্রা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি: গত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭° সেলসিয়াস বেড়েছে। পাহাড়ের বরফ গলছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে; মালদ্বীপ ও ভারতের কিছু অংশ ইতিমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে।

    ২. বন্যা: বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যায়, কোথাও প্রলয়ংকরী বন্যা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাইক্লোন, টাইফুন ও হ্যারিকেনও বেড়ে যায়। সিডর ও আইলার মতো ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়।

    ৩. খরা: গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাবে বায়ুমণ্ডল শুষ্ক হয়ে বার্ষিক বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে। এতে খরা দেখা দেয়, ফসল নষ্ট হয় এবং দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।

    ৪. ফলাফল: এসব দুর্যোগে মানুষ ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি হারায়, খাদ্য ও কর্মসংস্থান সংকট হয়।

    সুতরাং, চিত্র-P-এর গ্রিন হাউস প্রভাব বেড়ে গেলে চিত্র-Q-এর মতো দুর্যোগগুলো আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ হয়। তাই দুটি চিত্র পরস্পর সম্পর্কিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন