অর্থনীতি ২য় পত্র • বাংলাদেশ কৃষি • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১ : মি. 'X' একজন শিক্ষিত কৃষক। সে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চাষাবাদ করে।
দৃশ্যপট-২ : মি. 'Y' একজন নিরক্ষর কৃষক। সে হালের বলদের সাহায্যে অন্যের জমি বর্গা চাষ করে। সে ব্যবসায়ীদের নিকট কম দামে অগ্রিম ফসল বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে কৃষি কাজ করে।
- ক)(1)
কৃষি খামার কাকে বলে?
- খ)(2)
বৈশ্বিক উষ্ণতা কৃষির জন্য হুমকিস্বরূপ—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
আধুনিক কৃষির জন্য প্রশিক্ষণ ছাড়া আর কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মি. 'Y' এর মতো কৃষকদের উন্নয়নের উপর সামগ্রিক কৃষি উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভরশীল। এ বিষয়ে তোমার মূল্যায়ন উপস্থাপন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একজন কৃষক বা একক ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত একটি স্বাধীন কৃষি অর্থনৈতিক ইউনিটকে কৃষি খামার বলে, যেখানে ফসল উৎপাদন বা পশুসম্পদ প্রতিপালন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে জলবায়ুর চরম পরিবর্তন ঘটছে। এর প্রভাবে অনাবৃষ্টি, খরা, অসময়ে বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে। এসব প্রতিকূল পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং আবাদযোগ্য জমি হ্রাস পাচ্ছে। তাই বৈশ্বিক উষ্ণতা কৃষির জন্য এক বিরাট হুমকিস্বরূপ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আধুনিক কৃষির সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি নিয়ামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ মি. 'X'-এর কর্মকাণ্ডের আলোকে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ: আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য মূলধন অপরিহার্য। মি. 'X' কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেছেন। অপ্রাতিষ্ঠানিক মহাজনদের চড়া সুদের হাত থেকে বাঁচতে এবং কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ অত্যন্ত জরুরি।
২. আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা ও ব্যবহার: সনাতন পদ্ধতির বদলে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার বা আধুনিক সেচযন্ত্র ব্যবহার করলে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়ে এবং উৎপাদন খরচ ও সময় সাশ্রয় হয়। মি. 'X' আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমেই লাভজনক চাষাবাদ নিশ্চিত করেছেন।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সচেতনতা: কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ, মানসম্মত উচ্চফলনশীল বীজ, সঠিক মাত্রায় সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করা কৃষির আধুনিকায়নের জন্য অনস্বীকার্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. 'Y' এর মতো প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত কৃষকদের উন্নয়নের ওপর দেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভরশীল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে কৃষি খাতের সিংহভাগ কৃষকই নিরক্ষর, ভূমিহীন বা ক্ষুদ্র ও বর্গা চাষি। উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এর মি. 'Y' ঠিক তেমনই একজন কৃষক, যিনি হালের বলদ দিয়ে অন্যের জমি বর্গা চাষ করেন এবং পুঁজির অভাবে ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে অগ্রিম ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন (দাদন প্রথা)।
সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে তাদের গুরুত্ব ও মূল্যায়নের দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বৃহত্তম উৎপাদনকারী গোষ্ঠী: দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের একটি বড় অংশ মি. 'Y'-এর মতো ক্ষুদ্র ও বর্গা চাষিদের হাত দিয়ে আসে। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠী সনাতন পদ্ধতিতে অনগ্রসর থেকে গেলে জাতীয় উৎপাদন কখনোই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না।
২. মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ দূরীকরণ: অগ্রিম ফসল বিক্রি বা দাদন ব্যবস্থার কারণে প্রান্তিক কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকে থাকেন। তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করলে কৃষি অর্থনীতি টেকসই হবে না।
৩. ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার: বর্গা চাষিদের ভূমির মালিকানা বা নিরাপত্তা না থাকায় তারা জমিতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে আগ্রহী হন না। তাদের নীতিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিলে জমির উৎপাদনশীলতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
৪. আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার: কেবল গুটিকয়েক শিক্ষিত বা ধনী কৃষকের আধুনিকায়ন পুরো দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনতে পারে না। মি. 'Y'-এর মতো কৃষকদের মধ্যে যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক কৃষি জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারলেই সামগ্রিক কৃষি খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব।অতএব, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমস্যার সমাধান ছাড়া দেশের সামগ্রিক কৃষির উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও