বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্য-১ঃ 'ক' নামক একজন ব্যক্তি ক্ষমতা দখলের পর দুর্গ নির্মাণ করেন, নৌবাহিনী গঠন করেন এবং তিনিই প্রথম নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।দৃশ্য-২: 'খ' নামক একজন ব্যক্তি ছিলেন সুদক্ষ সেনাপতি, দূরদর্শী শাসক এবং তার সময়. দ্রব্যমূল্য খুবই সন্তা ছিল। এত সস্তা ছিল যে, টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
- ক)(1)
বারোভূঁইয়া কারা?
- খ)(2)
বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্য-১-এ 'ক' নামক ব্যক্তির সাথে প্রাচীন বাংলার কোন শাসকের মিল রয়েছে? তার শাসনকাল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-২-এর 'খ' নামক র্যল্লির সাথে ইতিহাসের যে ব্যক্তির মিল রয়েছে তার শাসনকালকে স্বর্ণযুগ বলা হয়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বারোভূঁইয়া হলো মুঘল আমলে বাংলার বারো জন প্রভাবশালী জমিদার বা ভূস্বামী, যাঁরা মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। ঈসা খাঁ ছিলেন তাঁদের নেতা।
- খ)
বাংলার শাসকরা সুলতানি আমলে বারবার দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। বুলগাক শব্দের অর্থ বিদ্রোহ। দিল্লির সুলতানদের কাছে বাংলা তাই বিদ্রোহের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। এ কারণে বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বা বিদ্রোহের নগরী বলা হয়।
- গ)
দৃশ্য-১-এর ‘ক’ নামক ব্যক্তির সাথে সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজির মিল রয়েছে। (পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী তিনি মধ্যযুগের শাসক।)
ইওয়াজ খলজি বখতিয়ার খলজির প্রতিষ্ঠিত রাজ্যকে শক্তিশালী করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। তাঁর শাসনামলের মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো।
১. রাজধানী স্থানান্তর ও দুর্গ নির্মাণ: তিনি রাজধানী দেবকোট থেকে গৌড় বা লখনৌতিতে স্থানান্তর করেন এবং প্রতিরক্ষার জন্য বসনকোটে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। রাজধানীর তিন পাশে গভীর ও প্রশস্ত পরিখা খনন করা হয়।
২. নৌবাহিনী গঠন: তিনি বুঝেছিলেন, শক্তিশালী নৌবাহিনী ছাড়া শুধু অশ্বারোহী বাহিনী দিয়ে নদীমাতৃক বাংলায় রাজ্য সম্প্রসারণ ও শাসন সম্ভব নয়। বাংলার মুসলিম শাসকদের মধ্যে তিনিই নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।
৩. জনকল্যাণ: বার্ষিক বন্যা থেকে রক্ষার জন্য তিনি বহু খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেন এবং রাস্তা তৈরি করে সৈন্য ও পণ্য চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
৪. রাজ্যবিস্তার ও স্বাধীনতা: কামরূপ, উড়িষ্যা, বঙ্গ ও ত্রিহুতের রাজারা তাঁকে কর দিতে বাধ্য হন। তিনি মুদ্রায় আব্বাসীয় খলিফার নাম অঙ্কন করেন। ইলতুতমিশের সাথে সন্ধির পর তিনি আবার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
সুতরাং, ক্ষমতা দখলের পর দুর্গ নির্মাণ ও নৌবাহিনী গঠনের দিক থেকে ‘ক’-এর সাথে ইওয়াজ খলজির মিল রয়েছে।
- ঘ)
দৃশ্য-২-এর 'খ' নামক ব্যক্তির সঙ্গে ইতিহাসের শায়েস্তা খানের মিল রয়েছে। তাঁর শাসনকালকে স্বর্ণযুগ বলা হয়, বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো।
১. শায়েস্তা খান ছিলেন সুদক্ষ সেনাপতি ও দূরদর্শী শাসক। তিনি মুঘল সুবাহদার হিসেবে বাংলায় শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন।
২. তাঁর শাসনামলে দ্রব্যমূল্য এত কম ছিল যে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। এ কারণে সাধারণ মানুষ সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে বাস করত।
৩. তাঁর আমলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির উন্নতি ঘটে। তিনি রাজ্যের নিরাপত্তা ও প্রশাসন সুদৃঢ় করেন।সুতরাং, দ্রব্যমূল্যের সস্তাতা, শান্তি-শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধির কারণে শায়েস্তা খানের শাসনকালকে স্বর্ণযুগ বলা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও