‍ইতিহাস ১ম পত্র • মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা বা পিএলও ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে পিএলও-র নেতৃবৃন্দ প্রতিবেশী দেশ জর্ডানে এই সংস্থার সদর দপ্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সদর দপ্তর তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে স্থানান্তর করে। প্রবাসে থেকেই পিএলও-র নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যান।

  1. ক)

    মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ রাতকে ইতিহাসে কালরাত বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর উক্ত কর্মকাণ্ড স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ সুগম করেছিল? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (এবং সেনাপ্রধান বা প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র, ঘুমন্ত ও নিরীহ বাঙালিদের ওপর 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত ও নৃশংস গণহত্যা চালায়। এই রাতে নির্বিচারে হাজার হাজার ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ, ইপিআর সদস্য ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল বলে এই রাতকে মানব ইতিহাসের এক নির্মম 'কালরাত' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন 'মুজিবনগর সরকার' বা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নিজ দেশে আগ্রাসনের শিকার হয়ে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) প্রতিবেশী জর্ডান ও পরবর্তীতে তিউনিসিয়ায় সদর দপ্তর স্থাপন করে স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা করে। অনুরূপভাবে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর আগ্রাসন ও গণহত্যার মুখে বাঙালি নেতৃবৃন্দ ভারতের কলকাতায় প্রবাসী অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠন করেন। মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের পর নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে কলকাতা থেকেই এই সরকারের সামগ্রিক প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। সুতরাং, প্রবাসে থেকে মাতৃভূমির স্বাধীনতার লড়াই পরিচালনার ক্ষেত্রে উভয় ঘটনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি মুজিবনগর সরকারের উক্ত কর্মকাণ্ড স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ সুগম করেছিল।

    ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এবং ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণকারী মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকে একটি সুসংগঠিত রূপ দান করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে সমগ্র মুক্তিযুদ্ধকে সফলভাবে পরিচালনা করেন।

    এই সরকারের অধীনেই সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে নিয়মিত ও গেরিলা বাহিনীর মাধ্যমে সমন্বিত যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়, শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে এই সরকার অনন্য ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করে যুদ্ধের গতি ত্বরান্বিত করা হয়েছিল।

    অতএব, মুজিবনগর সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সুসংগঠিত কার্যক্রম ছাড়া ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় সম্ভব হতো না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন