জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মানুষের বক্ষ গহ্বরে গ্যাস বিনিময়কারী স্পঞ্জের মতো অঙ্গ আছে। যা ধূমপানের কারণে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ক)(1)
ওটিটিস মিডিয়া কী?
- খ)(2)
শ্বসনে শ্বাসরঞ্জকের গুরুত্ব লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির কার্যকরী এককের গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ওটিটিস মিডিয়া (Otitis media) হলো মধ্যকর্ণের প্রদাহজনিত বা সংক্রমণজনিত রোগ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্বসনে গ্যাসীয় পরিবহনে শ্বাসরঞ্জক বা হিমোগ্লোবিনের গুরুত্ব অপরিসীম। লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত এই লৌহঘটিত প্রোটিন রঞ্জক ফুসফুস থেকে সংগৃহীত অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অস্থায়ী অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং রক্তসংবহনের মাধ্যমে দেহকোষে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে। এছাড়া কোষীয় শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডের একটি অংশ কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন হিসেবে ফুসফুসে পরিবহনেও শ্বাসরঞ্জক প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুস, যার গঠনগত ও কার্যকরী একক হলো অ্যালভিওলাস (Alveolus)।
অ্যালভিওলাসের গঠন নিম্নরূপ:
১. প্রাচীর: অ্যালভিওলাসগুলো অতি সূক্ষ্ম এবং এদের প্রাচীর মাত্র একস্তরবিশিষ্ট চ্যাপ্টা স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত। প্রাচীরটি অত্যন্ত পাতলা (প্রায় ০.১ মাইক্রোমিটার) হওয়ায় সহজেই ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস বিনিময় ঘটে।
২. কৈশিক জালক: প্রতিটি অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের বাইরে ঘন কৈশিক জালক (পালমোনারি ক্যাপিলারি) বিন্যস্ত থাকে।
৩. সারফ্যাকট্যান্ট ক্ষরণ: অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের বিশেষ কোষ (টাইপ-২ নিউমোসাইট) 'সারফ্যাকট্যান্ট' নামক ফসফোলিপিড জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে। এটি তরলের পৃষ্ঠটান হ্রাস করে প্রশ্বাসের সময় অ্যালভিওলাসকে উন্মুক্ত রাখতে এবং নিঃশ্বাসের সময় চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
৪. ফ্যাগোসাইটিক কোষ: এর প্রাচীরে অ্যালভিওলার ম্যাক্রোফেজ থাকে, যা অনুপ্রবেশকারী জীবাণু ও বহিরাগত ধূলিকণা ভক্ষণ করে অ্যালভিওলাসকে সুরক্ষিত রাখে।
৫. সংযোগকারী রন্ধ্র: পাশাপাশি অবস্থিত অ্যালভিওলাসগুলো 'পোর অব কোন' নামক ক্ষুদ্র ছিদ্র দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে, যা অ্যালভিওলাসের মধ্যকার বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি হলো— 'যা ধূমপানের কারণে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।' বাক্যটির পক্ষে যুক্তি নিচে উপস্থাপন করা হলো:
ধূমপানের ফলে নির্গত তামাকের ধোঁয়ায় নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড, টার ও বিভিন্ন কার্সিনোজেনিক উপাদান থাকে, যা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে:
১. সিলিয়া ধ্বংস: শ্বাসনালির ভেতরের এপিথেলিয়ামের সিলিয়াগুলো নিকোটিন ও টার-এর প্রভাবে অবশ ও অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে ফুসফুস ধূলিকণা ও শ্লেষ্মা অপসারণের স্বাভাবিক ক্ষমতা হারায়।
২. দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস (Chronic Bronchitis): ধূমপানের ফলে ব্রঙ্কিয়াল নালির মিউকাস ঝিল্লি ক্রমাগত উদ্দীপিত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘস্থায়ী কাশি এবং অতিরিক্ত কফ নিঃসরণের কারণ হয়।
৩. এমফাইসিমা (Emphysema): তামাকের ধোঁয়া অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের প্রোটিন বিনষ্ট করে এবং প্রাচীরগুলোকে ভেঙে ফেলে। এতে গ্যাস বিনিময়ের পৃষ্ঠতল ব্যাপকভাবে হ্রাস পায় এবং ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
৪. ফুসফুসের ক্যান্সার: তামাকের টার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান কোষের ডিএনএ পরিবর্তন করে ফুসফুসের অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন ঘটায়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ফুসফুসের ক্যান্সার।সুতরাং, উপরোক্ত ক্ষতিকর দিকগুলো প্রমাণ করে যে ধূমপানের ফলে মানুষের ফুসফুস বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও