সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
সহপাঠ প্রশ্ন
কদম আলি একসময় 'মাল্টিপারপাস জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন' নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। চটকদার বিজ্ঞাপন আর লোভাতুর প্রচারণায় অল্প সময়ে সে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অধিক মুনাফা লাভেল আশায় এলাকার অশিক্ষিত-অল্পশিক্ষিত খেটে খাওয়া মানুষ তার প্রতিষ্ঠানে অর্থলগ্নি করতে থাকে বছরের পর বছর যায়; কিন্তু জমাকারীরা লাভের মুখ দেখে না। নিকট অতীতে কদম আলির আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকলেও এখন সে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক। এলাকার এক শিক্ষিত তরুণ সাগর এক যুগ পর গ্রামে এসে দেখে কদম আলি সহজ- সরল মানুষকে কীভাবে প্রতারিত করে যাচ্ছে। সে দেরি না করে এলাকার উদীয়মান তরুণদের সুসংগঠিত করে কদম আলির প্রচারণা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনে। প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার দায়ে' কদম আলিকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
- ক)(1)
মতিগঞ্জের সড়কটা দিয়ে দলে-দলে লোক কোনদিকে চলছে?
- খ)(2)
"রহিমার অলক্ষ্যে ছাপিয়ে ওঠো অশ্রুর সঙ্গে কতক্ষণ লড়াই করে জমিলা তারপর কেঁদে ফেলে"- তার এই কান্নার কারন কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাগরের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের সাদৃশ্য দেখাও।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের কদম আলি ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই মুদ্রার এপিঠ- ওপিঠ।”- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মতিগঞ্জের সড়কটা দিয়ে দলে-দলে লোক আওয়ালপুর পীরের দরবারের দিকে চলছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদের ভীতি প্রদর্শন, জোরজবরদস্তি এবং নিজের অসহায়ত্বের কারণে জমিলা অশ্রুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত কেঁদে ফেলে।
মজিদ যখন জমিলাকে নামাজ পড়ার নির্দেশ দেয়, জমিলা তখন তার ঘুম-জড়ানো চোখে অনিচ্ছা প্রকাশ করে এবং একপর্যায়ে মুখে খিলখিল হাসি চলে আসে। মজিদ এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাত চেপে ধরে কঠিন চোখে তাকায় এবং তীব্র শাসন জারি করে। মজিদের এই হিংস্র রূপ ও রুঢ় আচরণের মুখে কিশোরী জমিলা প্রথমে নিজের আবেগ সংবরণ করার চেষ্টা করে, কিন্তু নিজের অসহায়ত্ব ও পরাস্ত হওয়ার বেদনায় সে আর কান্না চেপে রাখতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাগরের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের সমাজ-সচেতনতা, আধুনিক শিক্ষার আলোকবর্তিকা বহন এবং পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাস ছিল মোদাব্বের মিঞার ছেলে, যে শহরে গিয়ে লেখাপড়া শিখে গ্রামে ফিরেছিল। সে গ্রামের পশ্চাৎপদ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অজ্ঞ মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে গ্রামে একটি আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল। সে সমাজের মানুষের কল্যাণ চেয়েছিল।
উদ্দীপকের সাগরও উচ্চশিক্ষিত তরুণ, যে এক যুগ পর গ্রামে ফিরে এসে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের ঠকানোর চিত্র দেখে ব্যথিত হয়। সে নিষ্ক্রিয় না থেকে এলাকার তরুণদের সুসংগঠিত করে প্রতারক কদম আলির মুখোশ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
সুতরাং, গ্রামের সরল ও অজ্ঞ মানুষদের শোষণ-বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করার মানসিকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের সাগরের সাথে 'লালসালু'র আক্কাসের গভীর সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের কদম আলি ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ"— মন্তব্যটি প্রতারণা ও শোষণের কৌশলের দিক থেকে অত্যন্ত যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ ধর্মকে পুঁজি করে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে। সে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও ভয়কে কাজে লাগিয়ে নিজের আধিপত্য ও আর্থিক প্রতিপত্তি বিস্তার করে। সরল গ্রামবাসীকে অজ্ঞতার অন্ধকারে রেখে সে নিজের স্বার্থ হাসিল করে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের কদম আলি আধুনিক যুগে মানুষের লোভ ও সরলতাকে কাজে লাগায়। সে 'মাল্টিপারপাস জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন'-এর চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ফেলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করে রাতারাতি বিপুল ধন-সম্পদের মালিক বনে যায়।
মজিদ এবং কদম আলি—উভয়ের মূল লক্ষ্য এক ও অভিন্ন, তা হলো সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য গড়ে তোলা। মজিদ ব্যবহার করেছে ধর্মের মুখোশ, আর কদম আলি ব্যবহার করেছে আধুনিক জনকল্যাণ ও আর্থিক মুনাফার চটকদার মুখোশ। পন্থা ভিন্ন হলেও তাদের প্রতারক মানসিকতা ও স্বার্থপর চরিত্র হুবহু এক।
অতএব, সাধারণ মানুষের ওপর ভর করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জঘন্য চরিত্রের দিক থেকে কদম আলি ও মজিদ নিঃসন্দেহে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও