সাহিত্য পাঠ • বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
প্রাচীন ট্রয় যুদ্ধে রাজপুত্র হেক্টর অসামান্য বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দশ বছর গ্রিক বাহিনীকে ঠেকিয়ে রাখেন। হেক্টরকে সম্মুখ সমরে পরাস্ত করতে না পেরে গ্রিক বীর অ্যাকিলিস কৌশলের আশ্রয় নেয়। দেবী এথেনার ছলনায় বিভ্রান্ত হয়ে হেক্টর এক মায়াযুদ্ধে লিপ্ত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। দেবী এথেনার সহযোগিতায় অ্যাকিলিস কৌশলে জয়ী হলেও ইতিহাসের পাতায় হেক্টরের আদর্শিক লড়াই ও দেশের প্রতি মমত্ববোধই প্রকৃত বীরত্ব হিসেবে অমর হয়ে আছে।
- ক)(1)
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত বাংলা ছন্দের নাম কী?
- খ)(2)
“লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।” — তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মায়াযুদ্ধ ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের কোন ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়? কীভাবে?
- ঘ)(4)
“হেক্টর ও মেঘনাদ — উভয়েই নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসের শিকার হলেও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত।” — উদ্দীপক ও ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের আলোকে মন্তব্যের যাথার্থ্য বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত বাংলা ছন্দের নাম ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চরণটির অর্থ হলো— শত্রু লক্ষ্মণকে যুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করে মেঘনাদ লঙ্কাপুরীর কলঙ্ক মোচন করবেন।
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারের মতো সুরক্ষিত স্থানে রাঘবদাস লক্ষ্মণ অস্ত্রহীন মেঘনাদের সম্মুখে প্রবেশ করায় লঙ্কাপুরীর আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। লঙ্কার রাজপরিবারের কাছে এটি ছিল পরম অপমান ও কলঙ্ক। তাই বীর মেঘনাদ অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র এনে সম্মুখ সমরে লক্ষ্মণকে বধ করে মাতৃভূমির সেই কলঙ্ক মোচন করার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মায়াযুদ্ধ ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের দেবী মায়াদেবীর সাহায্যে অদৃশ্য হয়ে লক্ষ্মণের নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অস্ত্রহীন মেঘনাদের বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধের ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কাব্যাংশে দেখা যায়, রামের অনুজ লক্ষ্মণ বীর হলেও সে সম্মুখ সমরে মেঘনাদকে পরাস্ত করতে সক্ষম ছিল না। তাই সে দেবী মহামায়ার ছলনা বা মায়াবলে অদৃশ্য রূপ ধারণ করে এবং গৃহশত্রু বিভীষণের সহায়তায় রক্ষপুরীর শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। সেখানে পূজা ও প্রার্থনারত সম্পূর্ণ নিরস্ত্র মেঘনাদকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, দেবী এথেনার ছলনা ও মায়াযুদ্ধে বিভ্রান্ত হয়ে বীর হেক্টর অ্যাকিলিসের কাছে পরাস্ত হন। একইভাবে মেঘনাদও লক্ষ্মণের কোনো বীরত্বে নয়, বরং মায়াদেবীর মায়া এবং বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতামূলক কৌশলে অস্ত্রহীন অবস্থায় আক্রান্ত হন। তাই উদ্দীপকের মায়াযুদ্ধ কাব্যাংশের মায়াদেবীর সহায়তায় সংঘটিত সেই অনৈতিক লড়াইয়ের দিকটিকেই প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“হেক্টর ও মেঘনাদ — উভয়েই নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসের শিকার হলেও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত।” — মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের সামগ্রিক মূলভাবের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ যথার্থ।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কাব্যাংশে মেঘনাদ ছিলেন লঙ্কার প্রধান রক্ষক এবং শ্রেষ্ঠ বীর। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বারবার রাঘব সৈন্যকে পরাস্ত করেছেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আপন পিতৃব্য বিভীষণ শত্রু রাম-লক্ষ্মণের সাথে হাত মিলিয়ে স্বজাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। নিরস্ত্র মেঘনাদ যজ্ঞাগারে পূজায় মগ্ন থাকা অবস্থায় অনৈতিকভাবে আক্রান্ত হন। কিন্তু মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও তিনি আপস করেননি; মাতৃভূমি লঙ্কার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অস্ত্রহীন হাতেও বীরের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়েছেন।
অনুরূপভাবে, উদ্দীপকের ট্রয় বীর হেক্টর দীর্ঘ দশ বছর গ্রিক আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে একাই ট্রয় নগরীর স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন অসামান্য দেশপ্রেমিক যোদ্ধা। কিন্তু গ্রিক বীর অ্যাকিলিস তাকে সম্মুখ সমরে হারাতে ব্যর্থ হয়ে দেবী এথেনার মায়া ও ছলনার আশ্রয় নেয়। ফলে নিয়তির পরিহাসে দেবীর ছলনায় বিভ্রান্ত হয়ে হেক্টর মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু পরাজয় সত্ত্বেও হেক্টরের আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা বিশ্বসাহিত্যে প্রকৃত বীরত্ব হিসেবে সম্মানিত।
উভয় চরিত্রই বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে নিঃস্বার্থভাবে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু উভয়ের পরিণতিতেই ছিল অপ্রতিরোধ্য অপশক্তির চক্রান্ত ও নিয়তির নিষ্ঠুর হস্তক্ষেপ। তাই হেক্টর ও মেঘনাদ উভয়েই ছলনা ও ভাগ্যের শিকারে প্রাণ বিসর্জন দিলেও তাঁদের দেশপ্রেম ও বীরত্ব চিরভাস্বর। অতএব, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ও সুপ্রতিষ্ঠিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও