বিজ্ঞান • হৃদযন্ত্রের যত কথা এবং অন্যান্য • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২০

বিজ্ঞান প্রশ্ন

  1. ক)

    লাইপোপ্রোটিন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সিরাম বলতে কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের B চিত্রের তুলনামূলক গঠন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের A ও C এর মধ্যে কোনটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    লাইপোপ্রোটিন হলো লিপিড ও প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ, যা রক্তে চর্বি পরিবহন করে।

  2. খ)

    রক্ত জমাট বাঁধার পর যে হালকা হলুদ বর্ণের স্বচ্ছ তরল পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে সিরাম বলে।
    প্লাজমা থেকে ফাইব্রিনোজেনসহ জমাট বাঁধার উপাদানগুলো বাদ গেলে সিরাম পাওয়া যায়। তাই সিরামে ফাইব্রিনোজেন থাকে না এবং এটি জমাট বাঁধে না।

  3. গ)

    উদ্দীপকের B চিত্রে দুটি রক্তনালির প্রস্থচ্ছেদ দেখানো হয়েছে, যা ধমনি ও শিরার তুলনামূলক গঠন নির্দেশ করে।

    ধমনির গঠন: যেসব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে যায় তাকে ধমনি বলে। ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত। এর গহ্বর ছোট এবং ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না। ধমনির স্পন্দন আছে।

    শিরার গঠন: শিরার মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। শিরার প্রাচীরও ধমনির মতো তিন স্তরে গঠিত, তবে প্রাচীর বেশ পাতলা এবং গহ্বর বড়। বেশিরভাগ শিরায় কপাটিকা থাকে, যা রক্তকে একমুখে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে।

    তুলনা:

    বিষয়ধমনিশিরা
    প্রাচীরপুরুপাতলা
    গহ্বরছোটবড়
    কপাটিকানেইবেশিরভাগে আছে
    রক্তপ্রবাহহৃৎপিণ্ড থেকে দেহেদেহ থেকে হৃৎপিণ্ডে

    সুতরাং, প্রাচীরের পুরুত্ব, গহ্বরের আকার ও কপাটিকার উপস্থিতির দিক থেকে ধমনি ও শিরার গঠনে পার্থক্য আছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের A চিত্রটি একটি শ্বেত রক্তকোষ (সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় কোষ) এবং C চিত্রটি অণুচক্রিকা, যার আকৃতি অনিয়মিত। আমি মনে করি, শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে শ্বেত রক্তকোষ (A) অধিক গুরুত্বপূর্ণ, যদিও অণুচক্রিকারও (C) ভূমিকা অপরিহার্য।

    শ্বেত রক্তকোষের (A) গুরুত্ব:
    ১. রোগজীবাণু দেহে প্রবেশ করলে মনোসাইট ও নিউট্রোফিল জাতীয় শ্বেত কোষ ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণুকে গ্রাস করে ধ্বংস করে।
    ২. লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে দেহের ভেতরের জীবাণু ধ্বংস করে। এভাবে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল থাকে।
    ৩. দেহ সব সময় জীবাণুর সংস্পর্শে আসে, তাই এর কাজ নিরন্তর প্রয়োজন।

    অণুচক্রিকার (C) গুরুত্ব:
    ১. রক্তনালি বা টিস্যু কেটে গেলে অণুচক্রিকা সক্রিয় হয়ে অনিয়মিত আকার ধারণ করে রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়।
    ২. ডেঙ্গুজ্বরে অণুচক্রিকা কমে গেলে ত্বকের নিচে রক্তপাত (পারপুরা) হতে পারে। তাই এর ঘাটতি বিপজ্জনক।

    তুলনা: অণুচক্রিকা আঘাতের সময় রক্ষা করে, কিন্তু শ্বেত রক্তকোষ প্রতিনিয়ত নানা সংক্রমণ ও রোগ থেকে দেহকে রক্ষা করে। তাই সাধারণ সুস্থতায় এর গুরুত্ব বেশি।

    সুতরাং, দুটিই জরুরি হলেও শারীরিক সুস্থতার জন্য রোগ প্রতিরোধকারী শ্বেত রক্তকোষ (A) তুলনামূলকভাবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন