ভূগোল ১ম পত্র • বায়ুমণ্ডল ও বায়ু দূষণ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
দূষণ কাকে বলে?
- খ)(2)
বিষমমন্ডল কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রেক্ষাপট-২ এ উল্লিখিত বিষয়টির কারণ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রেক্ষাপট-১ এ উল্লিখিত স্তর-২ এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনো উপাদানে অবাঞ্ছিত বা ক্ষতিকর বস্তুর মিশ্রণ ঘটে তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের যে ক্ষতিকর পরিবর্তন হয় এবং যা জীবজগতের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাকে দূষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৮ কিলোমিটারের পর থেকে বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ পর্যন্ত বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না, বরং উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের ঘনত্ব ও বিন্যাসে পার্থক্য দেখা যায়। বায়ুমণ্ডলের এই অসম গ্যাসীয় বিন্যাসের অঞ্চলকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে।
বিষমমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাস আণবিক ও পারমাণবিক ওজনের তারতম্যের ভিত্তিতে স্তরে স্তরে সজ্জিত থাকে। যেমন— আণবিক নাইট্রোজেন স্তর, পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর, হিলিয়াম স্তর এবং সবার উপরে হাইড্রোজেন স্তর বিদ্যমান। গ্যাসের সংমিশ্রণ সমসত্ত্ব না হওয়ায় এ স্তরটিকে বিষমমণ্ডল বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-২ এ বায়ুর স্বাভাবিক অবস্থার পরিবর্তন ও মানুষের ক্ষতির কারণ নির্দেশ করায় বিষয়টি হলো 'বায়ুদূষণ'।
বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. জীবাশ্ম জ্বালানি দহন: কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যানবাহনে কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং নাইট্রোজেনের অক্সাইড বায়ুতে মেশে।
২. শিল্পকারখানা ও নগরায়ণ: অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও বিষাক্ত রাসায়নিক ধোঁয়া নির্গমন এবং ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ভাসমান কণা বায়ুকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।
৩. বনভূমি নিধন (Deforestation): নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের স্বাভাবিক ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
৪. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ধূলিকণা: উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা পচনের ফলে নির্গত মিথেন গ্যাস, নির্মাণকাজের ধূলিকণা এবং কৃষি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলেও বায়ু দূষিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-১ এ বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলোর মধ্যে পৃথিবীসংলগ্ন প্রথম স্তর (১) হলো ট্রপোমণ্ডল এবং দ্বিতীয় স্তর (২), যেখানে ওজোন (O₃) নির্দেশ করা হয়েছে, তা হলো 'স্ট্র্যাটোমণ্ডল' (Stratosphere)।
স্ট্র্যাটোমণ্ডলের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ: স্ট্র্যাটোমণ্ডলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর ওজোন স্তর (Ozone Layer)। ওজোন স্তর সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV-rays) শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে মারাত্মক ত্বকের ক্যান্সার, চোখের ছানি ও প্রজনন সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এটি প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
২. শান্ত পরিবেশ ও বিমান চলাচল: এই স্তরে জলীয় বাষ্প, মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি বা বায়বীয় অস্থিরতা প্রায় নেই বললেই চলে। আবহাওয়া অত্যন্ত শান্ত ও শুষ্ক হওয়ায় দ্রুতগতির জেট বিমানগুলো সাধারণত এই স্তরের মধ্য দিয়েই নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল করে।
৩. তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা: ওজোন গ্যাস অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করায় এই স্তরে উচ্চতার সাথে সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা বায়ুমণ্ডলের সামগ্রিক তাপীয় কাঠামো ও গতিশীলতার ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।সুতরাং, জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষা এবং নিরাপদ বিমান চলাচলের জন্য বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোমণ্ডল স্তরটির গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও