ভূগোল ১ম পত্র • সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা • Combined Board • রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীর পানির উচ্চতা নির্দিষ্ট সময়- অন্তর অন্তর বাড়ে কমে। পানির উচ্চতা বাড়লে পণ্য বোঝাই নৌযান সহজেই বন্দরে প্রবেশ করতে পারে। আবার পানির উচ্চতা কমে। গেলে নৌযান বন্দরে প্রবেশ করতে না পেরে গভীর সমুদ্রে অপেক্ষা করে।
- ক)(1)
ভরা কটাল কী?
- খ)(2)
গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাকৃতিক বিষয়টি সংঘটনের কারণ, ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাকৃতিক বিষয়টির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে সমুদ্রে যে প্রবল বা তীব্র জোয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে ভরা কটাল বা তেজ কটাল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক হলো উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলের নিকটে অবস্থিত একটি অগভীর সমুদ্রতল বা মগ্নচড়া।
এখানে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত এবং উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের মিলন ঘটে। শীতল ও উষ্ণ স্রোতের মিলনের ফলে এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে প্ল্যাঙ্কটন জন্মায়, যা মাছের প্রধান খাদ্য। প্ল্যাঙ্কটন প্রাচুর্যের কারণে গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও সমৃদ্ধ মৎস্য আহরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাকৃতিক বিষয়টি হলো 'জোয়ার-ভাটা'।
জোয়ার-ভাটা সংঘটনের প্রধান কারণ মূলত দুটি:
১. মহাকর্ষ শক্তি: মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের পারস্পরিক আকর্ষণ বলের কারণে সমুদ্রের পানি নিয়মিত ফুলে ওঠে (জোয়ার) এবং নেমে যায় (ভাটা)। সূর্যের তুলনায় চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে অবস্থান করায় পৃথিবীর সমুদ্রের পানির ওপর চাঁদের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্যের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কার্যকর হয়।
২. কেন্দ্রাতিগ শক্তি (Centrifugal force): পৃথিবী নিজের মেরুরেখার চারদিকে অবিরাম আবর্তন করার ফলে একটি কেন্দ্রাতিগ বা অপকেন্দ্র শক্তির সৃষ্টি হয়। এই শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর জলরাশি বাইরের দিকে ছিটকে যাওয়ার প্রবণতা দেখায়, যা জোয়ার সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাকৃতিক বিষয়টি হলো জোয়ার-ভাটা। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর জোয়ার-ভাটার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে:
১. নৌযান চলাচল ও নোঙর: জোয়ারের সময় নদ-নদী ও উপকূলীয় সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। ফলে উদ্দীপকে উল্লেখিত তথ্যের মতো গভীর সমুদ্র থেকে বড় বড় পণ্যবাহী জাহাজ ও নৌযান সহজেই নদীর অগভীর পথ অতিক্রম করে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর বা সমুদ্রবন্দরে প্রবেশ করতে পারে। আবার ভাটার টানে অগভীর হওয়ার আগেই জাহাজগুলো পণ্য খালাস করে সুবিধাজনক সময়ে ফিরে যেতে পারে।
২. পলি অপসারণ ও নাব্য রক্ষা: ভাটার সময় তীব্র বেগে পানি সাগরের দিকে নেমে যাওয়ার ফলে নদীর তলদেশে সঞ্চিত পলি ও আবর্জনা ধুয়ে-মুছে সমুদ্রে চলে যায়। এর ফলে নদী ও বন্দরের নাব্য বজায় থাকে, যা বাণিজ্যিক নৌপথ সচল রাখতে অপরিহার্য।
৩. বরফমুক্ত বন্দর: শীতপ্রধান দেশে উষ্ণ সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারের নোনা পানির প্রভাবে নদীর মোহনা ও বন্দর বরফমুক্ত থাকে, ফলে সারা বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
৪. শক্তি উৎপাদন: জোয়ার-ভাটার গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে জলবিদ্যুৎ তৈরি করা হয়, যা শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ব্যবহৃত হয়।অতএব, নৌপরিবহন ও বন্দরভিত্তিক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্ন ও গতিশীল রাখতে জোয়ার-ভাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও