যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: চট্টগ্রাম, রফিক, কমলা। দৃশ্যকল্প-২
| ব্যক্ত্যর্থ | পদ | জাত্যর্থ |
|---|---|---|
| সকল প্রাণী | প্রাণী | প্রাণীত্ব |
| সকল মানুষ | মানুষ | প্রাণীত্ব + বুদ্ধিবৃত্তি |
| সকল শিক্ষিত মানুষ | শিক্ষিত মানুষ | প্রাণীত্ব+বুদ্ধিবৃত্তি+ শিক্ষা |
- ক)(1)
সহ-পদ যোগ্য শব্দ কী?
- খ)(2)
"সব শব্দই পদ নয়" কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ যুক্তিবিদ্যার কোন ধরনের শব্দকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে দৃশ্যকল্প-২ এ ইঙ্গিতকৃত বিষয়টির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শব্দ নিজে নিজে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না, কিন্তু অন্য কোনো শব্দের সাহায্যে ব্যবহৃত হতে পারে, সেগুলোকে সহ-পদ যোগ্য শব্দ (Syncategorematic word) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যায় যেসব শব্দ কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় বা হওয়ার যোগ্যতা রাখে, কেবল তাদেরকেই 'পদ' বলা হয়। পক্ষান্তরে, ভাষায় ব্যবহৃত সকল অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিই শব্দ। ব্যাকরণে পদ-অযোগ্য (যেমন: আহা, হায়) বা সহ-পদ যোগ্য (যেমন: এবং, ও, কিন্তু) শব্দগুলোও শব্দ, কিন্তু তারা স্বাধীনভাবে পদের স্থান গ্রহণ করতে পারে না। ফলে সকল পদই শব্দ হলেও সব শব্দ পদ নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত শব্দগুলো যুক্তিবিদ্যার 'পদযোগ্য শব্দ' (Categorematic words)-কে নির্দেশ করে।
যেসব শব্দ অন্য কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, সেগুলোকে পদযোগ্য শব্দ বলে। যেমন: বই, কলম, মানুষ ইত্যাদি।
দৃশ্যকল্প-১ এ দেওয়া শব্দগুলো হলো 'চট্টগ্রাম', 'রফিক', 'কমলা'। এ শব্দগুলোর প্রতিটিই স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে সক্ষম এবং কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে এককভাবে ব্যবহৃত হতে পারে (যেমন: "চট্টগ্রাম একটি বিভাগীয় শহর", "রফিক একজন ছাত্র", "কমলা একটি মিষ্টি ফল")। সুতরাং এ শব্দগুলো পদযোগ্য শব্দ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যকার বিপরীতমুখী বা ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ককে নির্দেশ করা হয়েছে।
পদের ব্যক্ত্যর্থ বলতে তার সংখ্যামূলক বা পরিমাণের দিককে বোঝায় এবং জাত্যর্থ বলতে পদের মৌলিক বা আবশ্যিক গুণের সমষ্টিকে বোঝায়। যুক্তিবিদ্যায় ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের সম্পর্ক পরস্পরের বিপরীতমুখী। অর্থাৎ:
১. ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে,
২. ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে,
৩. জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে, এবং
৪. জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে।দৃশ্যকল্প-২ লক্ষ্য করলে দেখা যায়:
- 'প্রাণী' পদের ব্যক্ত্যর্থ হলো 'সকল প্রাণী', যার জাত্যর্থ কেবল 'প্রাণীত্ব'। এখানে ব্যক্ত্যর্থ সর্বাধিক এবং জাত্যর্থ সর্বনিম্ন।
- যখন এর সাথে 'বুদ্ধিবৃত্তি' গুণটি যোগ করা হলো (জাত্যর্থ বেড়ে হলো প্রাণীত্ব + বুদ্ধিবৃত্তি), তখন পদটি হলো 'মানুষ'। এতে ব্যক্ত্যর্থ সংকুচিত হয়ে কেবল 'সকল মানুষ'-এ নেমে এল (ব্যক্ত্যর্থ কমল)।
- আবার যখন আরও একটি গুণ 'শিক্ষা' যুক্ত করা হলো (জাত্যর্থ আরও বাড়ল), তখন পদটি হলো 'শিক্ষিত মানুষ' এবং এর ব্যক্ত্যর্থ কমে হলো 'সকল শিক্ষিত মানুষ'।
সুতরাং দৃশ্যকল্প-২ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কোনো পদের জাত্যর্থ বৃদ্ধি পেলে তার ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পায় এবং জাত্যর্থ হ্রাস পেলে ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও